|
|
| দলে ভাঙন: লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে আলাদা ব্লক গঠনের আর্জি ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের। |
নয়াদিল্লি: জাতীয় রাজনীতিতে আক্ষরিক অর্থেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর এবার খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন ঘাসফুল শিবিরের ২০ জন প্রবীণ ও তারকা সাংসদ। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের (নিউজ ১৮) হাতে আসা এক্সক্লুসিভ চিঠি ঘিরে এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতিতে রীতিমতো ভূমিকম্প শুরু হয়েছে。
সূত্রের খবর, বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী সাংসদরা নিজস্ব জোট গঠন করে সরাসরি এনডিএ (NDA)-তে যোগ দেওয়ার জন্য গত ১৮ই মে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছেন।
কারা সই করলেন এই বিদ্রোহী চিঠিতে?
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের প্রথম সারির একাধিক তারকা এবং হেভিওয়েট নেতারা। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলি হলো— বীরভূমের শতাব্দী রায়, ঘাটালের দীপক অধিকারী (দেব), হুগলির রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, যাদবপুরের সায়নী ঘোষ, মেদিনীপুরের জুন মালিয়া, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিক এবং বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান।
এছাড়াও চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বাপি হালদার, ডা. শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, মিতালি বাগ, কলকাতা দক্ষিণের মালা রায় এবং কালিপদ সোরেন। যদিও স্বাক্ষর সংবলিত ওই পাতাগুলি চিঠির মূল অংশ কি না, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ধর্মীয় ভাতা সম্পূর্ণ বন্ধ করল রাজ্য! ইমাম-পুরোহিতদের টাকা ও মাদ্রাসা বরাদ্দ স্থগিত নবান্নের
দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে সুকৌশলী পদক্ষেপ!
বিদ্রোহের পাশাপাশি দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) থেকে বাঁচতে অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এই সাংসদরা। জানা গিয়েছে, চিঠিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজের নামের পাশে ‘চিফ হুইপ’ পদবি উল্লেখ করেছেন, এবং শতাব্দী রায়ের নামের পাশে 'ডেপুটি লিডার' লেখা হয়েছে।
বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, লোকসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বদলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিফ হুইপ পদে নিয়োগ করলেও, লোকসভা সচিবালয়ে সেই সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনও পৌঁছায়নি। ফলে খাতায়-কলমে কাকলিই লোকসভায় দলের বৈধ চিফ হুইপ হিসেবে বহাল রয়েছেন। স্পিকারের কাছে তাঁরা জোর দিয়ে জানিয়েছেন, চিফ হুইপ নিজেই যেহেতু এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে, তাই তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না।
হঠাৎ কেন এই মহা-বিদ্রোহ?
বিদ্রোহী সাংসদরা দলনেত্রী ও শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযোগ এনেছেন। তাঁদের প্রধান অভিযোগ দুটি:
- বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্নতা: সাংসদদের দাবি, দলনেত্রী সরকার ও দলের নিচুতলার বাস্তব পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, যার জেরে দলের অন্দরে বেলাগাম দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
- অভিষেকের বাড়তি ক্ষমতা: দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও তাঁরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারীকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ এই প্রবীণ ও তারকা সাংসদরা।
সব মিলিয়ে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের এই ভয়াবহ ফাটল সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎকেই এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।