|
|
| সীমান্তে কথিত পুশ-ইন ও হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশে বড় ধরণের আন্দোলনের প্রস্তুতি। |
ঢাকা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত ‘পুশ-ইন’ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলনের পথে নামছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার শরিক দলগুলো। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী ছাত্রনেতৃত্বাধীন ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ (NCP)-সহ ১১ দলীয় জোট ভারতের বিরুদ্ধে এই বিশাল বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়। জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আ হ ম হামিদুর রহমান আজাদ জানান, আগামী ১২ জুন (শুক্রবার) দেশের সমস্ত সীমান্তবর্তী জেলা ও পয়েন্টগুলিতে একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ হবে এবং ১৫ জুন ঢাকায় মেগা মিছিল আয়োজিত হবে।
জামাতের অভিযোগ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
তিন মাসে ৫০টি ঘটনা: জামাতের দাবি, গত তিন মাসে সীমান্তে অন্তত ৫০টি ‘পুশ-ইন’ বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে প্রায় ২,৪৭৯ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টের ডেডলাইন মেনে সিআইডি-র মুখোমুখি অভিষেক, পৌঁছলেন ভবানী ভবনে
সীমান্তে ১৯ জনের মৃত্যু: তাদের আরও অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের প্রথম ১০০ দিনে বিএসএফ-এর গুলিতে ১৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। বর্তমান সরকার ভারতের প্রতি অত্যন্ত নমনীয় বলে দাবি করে জামাত হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যে কোনও মূল্যে এই ‘পুশ-ইন’ রুখে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, এনসিপি সীমান্তে ‘মানববন্ধন’ গড়ার ডাক দিয়েছে।
নয়াদিল্লির অবস্থান ও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি
ভারত অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত কোনও ‘পুশ-ইন’ করছে না। বরং, আইনি প্রক্রিয়া ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতেই কেবল অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে। উল্টে তিনি বাংলাদেশকে তাদের নাগরিকদের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার আবেদন জানিয়েছেন।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর কাজ জোরকদমে চলছে। ইতিমধ্যেই হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই আবহে জামাতের এই রাজপথের কর্মসূচি দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।