|
|
| সড়কপথে বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। |
বেনাপোল: প্রথা ভেঙে আকাশপথের বদলে সরাসরি সড়কপথে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ওপার বাংলায় পা রাখেন তিনি। আর দায়িত্ব নিতে এসেই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দিলেন এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক।
"একই আকাশ, একই বাতাস"—মাইলফলক বার্তা নতুন হাইকমিশনারের
এদিন বেনাপোল স্থলবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেন ত্রিবেদী। আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, "একই আকাশ, একই বাতাস, একই জলতরঙ্গ, তাহলে আমরা মিলেমিশে কাজ করব।" তাঁর মতে, ভারত ও বাংলাদেশ— এই দুই শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে এলে তা কেবল আঞ্চলিক নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। পাশাপাশি যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং খেলাধুলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নতুন হাইকমিশনার।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর বড় ইঙ্গিত
অন্যদিকে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বহু চর্চিত ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানান, বিষয়টি তাঁর বিবেচনায় রয়েছে এবং আগামী দিনে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে সকলে সন্তুষ্ট হন। তাঁর এই মন্তব্যে সাধারণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার জোরালো আশা তৈরি হয়েছে।
সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও রাজকীয় অভ্যর্থনা
নতুন হাইকমিশনারের আগমনকে ঘিরে এদিন বেনাপোল চেকপোস্ট ও যশোর-ঢাকা মহাসড়কে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। ভারতীয় হাইকমিশনের তরফে তাঁকে স্বাগত জানাতে সীমান্তে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসী দাস, সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব আগরওয়াল-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। এছাড়া বাংলাদেশ প্রশাসনের পদস্থ কর্তারাও তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন ভারতের राष्ट्रपति দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। প্রাক্তন হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর এই নিয়োগকে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নয়া অধ্যায় হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। সীমান্ত পেরিয়ে এদিনই সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার।