|
|
| তৃণমূল-কংগ্রেস সংযুক্তির জল্পনার মাঝেই ১০ জনপথে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি) |
নয়াদিল্লি: একদিকে দলের অন্দরে চরম ডামাডোল, আর অন্যদিকে দিল্লিতে তৎপরতা! তৃণমূল-কংগ্রেস সংযুক্তির (Merger) তীব্র জল্পনার মাঝেই এবার ১০ জনপথে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কয়েকদিন আগেই কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বুধবার রাহুলের সঙ্গে অভিষেকের প্রায় আধ ঘণ্টার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক political মহলে সংযুক্তির জল্পনাকে আরও কয়েকগুণ উসকে দিয়েছে
কংগ্রেসে কি মিশে যাচ্ছে তৃণমূল?
টানা জোড়া হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সত্যিই জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে চলেছে তৃণমূল? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, সংযুক্তির এই দাবি একেবারেই সঠিক নয়। বরং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোটের অন্দরে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং যৌথ রণকৌশল প্রস্তুত করতেই এই বৈঠক করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দুই দল কীভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুন: মহা সংকটে তৃণমূল! রাজ্যসভার পর এবার লোকসভাতেও বড় ভাঙন? NDA-র পথে ২০ জন সাংসদ!
তৃণমূলের অন্দরে মেগা বিদ্রোহ
দিল্লিতে যখন শীর্ষ নেতৃত্বের এই বৈঠক চলছে, তখন তৃণমূলের অন্দরে কার্যত ভূমিকম্প! ইতিমধ্যেই রাজ্যসভায় পর পর ইস্তফা দিয়েছেন প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব। সুখেন্দুবাবু সরাসরি দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। এর পাশাপাশি লোকসভাতেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো প্রবীণ সাংসদের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ আলাদা বসার দাবি জানিয়েছেন এবং তাঁরা বিরোধী জোট ছেড়ে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলের এই চরম ভাঙনের মুখেই রাহুল-অভিষেক বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কী বলছে তৃণমূল নেতৃত্ব?
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ সম্প্রতি বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রুখতে তৃণমূল-কংগ্রেস সংযুক্তির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব এই দাবি নস্যাৎ করে স্পষ্ট জানিয়েছে, দলের সাংগঠনিক সংযুক্তির কোনো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়নি। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য রাজ্য স্তরের পার্থক্য বজায় রেখেই শুধুমাত্র জোটের সমন্বয় বাড়ানোর ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।