হরমুজ প্রণালী ইরান নয়, আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে! 'গোপন মিশন' নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড়

Donald Trump claims US controls Strait of Hormuz secret mission
হরমুজ প্রণালী আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (ফাইল ছবি)

ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের সামরিক সংঘাতের পারদ যখন আকাশচুম্বী, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক দাবি করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ 'স্ট্রেইট অফ হরমুজ' বা হরমুজ প্রণালী এখন ইরানের নয়, বরং আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সরাসরি দাবি করেছেন তিনি। একই সাথে, মার্কিন সেনাকে একটি 'গোপন মিশন' চালানোর নির্দেশ দিয়ে এই জলপথ দিয়ে কোটি কোটি ব্যারেল তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে পার করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্পের 'গোপন মিশন' ও ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই সংকটাপন্ন জলপথে তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে একটি বিশেষ 'গোপন মিশন' (Secret Mission) পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সেনার সেই গোপন অপারেশনের ফলেই বর্তমানে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি খনিজ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে অত্যন্ত নিরাপদে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে।

আরও পড়ুন: ইরানের পানীয় জলপ্রকল্পে মার্কিন হামলা 'পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ'! আন্তর্জাতিক মঞ্চে তীব্র ক্ষোভ তেহরানের

"ইরান নয়, নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে"

পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন সুরক্ষাকবচ থাকায় এ পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, এই প্রণালীটি এখন আমেরিকার দখলে রয়েছে— "ইরানের নয়"!

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর এই চাঞ্চল্যকর দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সামরিক নথি পেশ করেননি। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ব বাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়, যা ইরান নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি করে। সেখানে ট্রাম্পের এমন দাবি ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে (IRGC) আরও উসকে দিতে পারে, যার ফলে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।