ইরানের পানীয় জল প্রকল্পে মার্কিন হামলা 'পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ'! আন্তর্জাতিক মঞ্চে তীব্র ক্ষোভ তেহরানের

US attack on Iran water facilities in Sirik Hormozgan
ইরানের সিরিক বন্দর শহরে পানীয় জল প্রকল্পে মার্কিন হামলার পর তীব্র উত্তেজনা।

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এবার এক নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক মোড় নিল। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগন প্রদেশের একটি বন্দর শহরে সাধারণ মানুষের পানীয় জলের প্রকল্পে মার্কিন সামরিক বাহিনী "ইচ্ছাকৃতভাবে" হামলা চালিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে tehran। এই ঘটনাকে কোনো সাধারণ ক্ষয়ক্ষতি নয়, বরং একটি "পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ" বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান।


বেসামরিক পরিকাঠামোয় ধ্বংসলীলা, সংকটে ২০ হাজার মানুষ

ইরানের विदेश মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জানান, ওমান সাগরের উপকূলবর্তী সিরিক (Sirik) বন্দর শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক জলপ্রকল্পকে নিশানা করে এই হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন এই আগ্রাসনের ফলে ওই অঞ্চলের দুটি বিশাল জলের জলাধার (Reservoir) সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার ১০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি সাধারণ বাসিন্দা তীব্র পানীয় জলের সংকটের মুখে পড়েছেন।

আরও পড়ুন: আমেরিকার ৩৫০ কোটি টাকার ড্রোন নামাল ইরান! মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সরব ইরান

ইরানি মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের জীবনধারণের অপরিহার্য পরিকাঠামোর ওপর এই ধরনের পদ্ধতিগত বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাঘাইয়ের মতে, "এটি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি (Collateral Damage) নয়। এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি একটি পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ।"

আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আমেরিকার এই অমানবিক ও বেআইনি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ওয়াশিংটনকে জবাবদিহি করার দাবি জানিয়েছে ইরান। এই হামলার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পারদ যে আরও চড়ল, তা বলাই বাহুল্য।