|
|
| রাশিয়ার সাপ্লাই লাইনে ধস নামিয়ে বিপুল পরিমাণ হারানো জমি পুনরুদ্ধার করল ইউক্রেন। |
কিয়েভ: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বড়সড় পটপরিবর্তন! রণাঙ্গনে রাশিয়ার 'সাপ্লাই লাইন' বা রসদ সরবরাহের পথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দিয়ে মে মাসে বিপুল পরিমাণ হারানো জমি পুনরুদ্ধার করল ইউক্রেন। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে একটু একটু করে জমি দখল করছিল মস্কো। কিন্তু ইউক্রেনের নতুন 'লজিস্টিক লকডাউন' কৌশলে সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে, ব্যাকফুটে পুতিনের সেনা।
কতটা জমি পুনরুদ্ধার করল ইউক্রেন?
ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, "মে মাসে আমরা যতটা জমি হারিয়েছি, তার থেকে প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার (৪০ বর্গ মাইল) বেশি এলাকা রাশিয়ার হাত থেকে স্বাধীন করেছি।" শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক 'ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার' (ISW)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মে মাসে রাশিয়া মাত্র ৪০ বর্গ কিমি এলাকা দখল করতে পারলেও, ইউক্রেনের পালটা মারে প্রায় ২৮ো বর্গ কিমি এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট ৬০০ বর্গ কিমি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে কিয়েভ।
গেমচেঞ্জার 'লজিস্টিক লকডাউন' কৌশল! চরম সঙ্কটে রাশিয়া
যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের এই সাফল্যের মূল কারণ হলো তাদের নিখুঁত 'লকডাউন কৌশল'। ফ্রন্টলাইন থেকে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে থাকা রাশিয়ার অস্ত্রের গুদাম এবং জ্বালানি সরবরাহকারী ট্রাকে নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেনীয় সেনা। এর ফলে খেরসন এবং জাপোরিঝিয়ায় রাশিয়ার প্রধান যাতায়াতের রুট 'এম-১৪' (M-14) হাইওয়েতে সেনার যান চলাচল ৭০ শতাংশ কমে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে রাশিয়া এখন ক্রিমিয়া হয়ে বিকল্প পথে রসদ পাঠানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু সেখানেও ইউক্রেনের পালটা হামলায় তেলের চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। ক্রিমিয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য সপ্তাহে মাত্র ২০ লিটার তেল বরাদ্দ করা হয়েছে।
ড্রোন যুদ্ধে বাজিমাত, সেনা নিয়োগে পিছিয়ে মস্কো
মে মাসে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাশিয়ার ১ লক্ষ ৮০ হাজারটি টার্গেটে আঘাত হেনেছে। এমনকি রাশিয়ার ভয়ংকর 'শাহেদ' ড্রোনগুলোকে আকাশে ধ্বংস করার হারও ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে কিয়েভ।
অন্যদিকে, রণাঙ্গনে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে রাশিয়া। চলতি বছরে রাশিয়া নতুন করে যত সেনা নিয়োগ করেছে, ইউক্রেন তার চেয়ে ১২,৫০০ বেশি রুশ সেনাকে হত্যা বা জখম করেছে। বোনাসের টোপ দিয়েও সেনায় লোক টানতে পারছে না মস্কো, যা পুতিনের জন্য এক বিশাল চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।