বাংলায় বিজেপি সরকার আসতেই বাংলাদেশ-পাকিস্তান MoU ঘিরে রহস্য, সীমান্ত না থাকলেও ‘ক্রস-বর্ডার’ চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

 


বাংলাদেশ-পাকিস্তান MoU ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পরই বাংলাদেশ-পাকিস্তান সমঝোতা স্মারক বা MoU ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকা সফরে গিয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর মাদক চোরাচালান, অর্থ পাচার এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সহযোগিতার বিষয়ে একটি MoU স্বাক্ষরিত হয়।

সীমান্ত নেই, তবু ‘সীমান্ত চোরাচালান’ চুক্তি?

এই চুক্তি নিয়েই মূল প্রশ্ন উঠছে। কারণ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও স্থল সীমান্ত নেই। বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত রয়েছে ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে। পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি স্থল যোগাযোগ না থাকায় ‘সীমান্তে চোরাচালান’ এবং ‘ক্রস-বর্ডার টেররিজম’ মোকাবিলার মতো শব্দবন্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা মহলের একাংশের প্রশ্ন, দুই দেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত না থাকলে এই ধরনের চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ কোথায়?

চুক্তিতে কী রয়েছে?

জানা যাচ্ছে, ওই সমঝোতা স্মারকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ অভিযান এবং কারিগরি সহায়তার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের দাবি, মাদক চোরাচালান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র মোকাবিলায় এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রয়োজনীয়।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এই চুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করতে সাহায্য করবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সন্দেহ

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ এই চুক্তির সময় এবং প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং দ্রুত MoU স্বাক্ষর হওয়া কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

একাংশের দাবি, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে ভারত-বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে নতুন সমন্বয়ের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অস্ত্র-মাদক পাচার প্রসঙ্গেও উদ্বেগ

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে পাকিস্তান থেকে জাহাজে করে বাংলাদেশে মাদক ও অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ ঘিরেও আগে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই সফর ও চুক্তিকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সরকারি স্তরে স্পষ্ট প্রমাণ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।

ঢাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন

ঢাকার একাংশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে—যদি দুই দেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত না থাকে, তাহলে ‘সীমান্ত চোরাচালান’ রোখার চুক্তির প্রয়োজন কী? তাঁদের মতে, সমুদ্রপথে অপরাধ বা পাচার হলে সেটি আলাদা ভাবে মোকাবিলা করা যায়, কিন্তু এই চুক্তির ভাষা আরও পরিষ্কার হওয়া দরকার।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ?

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান MoU ঘিরে নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়ে চর্চা বাড়ছে। একদিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এটিকে নিরাপত্তা সহযোগিতা হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই চুক্তির নেপথ্যের উদ্দেশ্য আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

মন্তব্যসমূহ