‘সত্য কথা বলেছি বলেই শাস্তি’, ৬ বছরের সাসপেনশন নিয়ে বিস্ফোরক ঋজু দত্ত, তৃণমূলের অন্দরে তীব্র চর্চা
ঋজু দত্তকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ঋজু দত্তকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে। তবে এই সাসপেনশনকে ‘অন্যায়’ বলে দাবি করেছেন ঋজু দত্ত।
তাঁর দাবি, তিনি সত্য কথা বলার কারণেই এই শাস্তি পেয়েছেন।
ভিডিও বার্তা ঘিরে বিতর্ক
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় ঋজু দত্ত ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বিজেপি কীভাবে তাঁকে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে কুমন্তব্য করার জন্য ক্ষমাও চান তিনি।
ঋজুর বক্তব্য, দলের চাপ এবং কিছুটা আবেগের বশেই তিনি অতীতে কিছু মন্তব্য করেছিলেন। এই স্বীকারোক্তির পরই তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।
After giving 13 yrs of my Youth to @AITCofficial , working incessantly to prove myself, rising through the ranks due to sheer performance (because I, am NOT a nepo kid) - my beloved party has SUSPENDED ME FOR 6 YEARS !
— 𝐑𝐢𝐣𝐮 𝐃𝐮𝐭𝐭𝐚 (@DrRijuDutta_TMC) May 9, 2026
Why? Because I, spoke the truth.
The Suspension Notice… pic.twitter.com/HHulFLThzU
‘আমি সত্য কথা বলেছি’
সাসপেনশনের পর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ঋজু দত্ত লেখেন, তৃণমূল কংগ্রেসে তিনি তাঁর যৌবনের ১৩টা বছর দিয়েছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
ঋজুর কথায়, তিনি কোনও ‘নেপো কিড’ নন। অথচ তাঁর প্রিয় দল তাঁকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছে। কারণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, “আমি সত্য কথা বলেছি।”
নোটিশ নিয়ে পাল্টা দাবি ঋজুর
ঋজু দত্তের অভিযোগ, সাসপেনশন নোটিশে বলা হয়েছে তিনি ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে হাজির হননি। কিন্তু তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি ৯ মে ২০২৬ সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে তৃণমূল ভবনে লিখিত জবাব জমা দিয়েছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, সম্ভবত তাঁর জবাব না পড়েই সাসপেনশন নোটিশ তৈরি করা হয়েছে।
‘I Will Be Back’ বার্তা
পোস্টের শেষে ঋজু দত্ত লেখেন, “Thank You All India Trinamool Congress! I promise I will be back! See you soon!” তাঁর এই বার্তার পর রাজনৈতিক মহলে আরও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা বনাম মতপ্রকাশ
ঋজু দত্তের সাসপেনশন ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে এবং বাইরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখার উদাহরণ এটি। আবার তৃণমূলের একাংশের দাবি, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া
ঋজু দত্তের সমর্থকদের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ কেউ তাঁকে ‘সাহসী’ বলে উল্লেখ করেছেন। এক সমর্থকের মন্তব্য, “১৩ বছরের নিষ্ঠার বিনিময়ে ৬ বছরের সাসপেনশন? এটা কোন ধরনের বিচার?”
সব মিলিয়ে ঋজু দত্তের সাসপেনশন এখন তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তি এবং নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন