ওপারে জামায়াত-উত্থান, এপারে গেরুয়া ঢেউ: সীমান্ত-ব্যালটে কি ফিরল ‘নিরাপত্তা’র রাজনীতি?
কলকাতা: নব্বইয়ের দশকে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে গড়ে ওঠা ‘স্প্যাংলিশ’ সংস্কৃতির গল্প আজ ইতিহাসের পাতায়। কিন্তু ২০২৬ সালে হাজার কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে রচিত হলো এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ প্রভাবের আখ্যান। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে উঠে আসছে এক চমকপ্রদ তথ্য—সীমান্তের ওপারে কট্টরপন্থা আর এপারে ব্যালটে মেরুকরণের এক অঘোষিত লড়াই।
তথ্য বলছে, ওপার বাংলার যে ১৭টি সীমান্ত সংলগ্ন আসনে কট্টরপন্থী জামায়াতে ইসলামী জয়ী হয়েছে, তার ঠিক বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকাগুলোতে বিজেপি অন্তত ২৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনে শফিকুর রহমান নেতৃত্বাধীন জামায়াতের নজিরবিহীন উত্থান, বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর সংলগ্ন রংপুর বিভাগে তাদের দাপট ভারতীয় ভোটারদের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
ভোটের আগে থেকেই বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব অনুপ্রবেশ এবং জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ইস্যুকে হাতিয়ার করেছিলেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, মন্দির ভাঙচুর এবং ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনির খবর এপারের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি এই ইস্যুগুলোকে সরাসরি রাজপথে নিয়ে আসে, যা সীমান্ত এলাকার ভোটারদের বিজেপির পক্ষে সংহত করতে সাহায্য করে।
নির্বাচনী মানচিত্র বলছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বনগাঁ, বাগদা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের মালদা, দুই দিনাজপুর এবং কোচবিহার পর্যন্ত বিস্তৃত সীমান্ত জেলাগুলোতে বিজেপির জয়ের ধারা অব্যাহত ছিল। বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা বা যশোরের মতো জামায়াত-অধ্যুষিত জেলাগুলোর বিপরীতে থাকা ভারতীয় আসনগুলোতে পদ্ম ফুটেছে অনায়াসেই।
শুক্রবার জয়ী নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও স্পষ্ট করে দেন যে, এই জয় কেবল সংগঠনের বিস্তার নয়, বরং এটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র জয়。 রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওপার বাংলার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কট্টরপন্থার উত্থান দেখে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী মানুষ কার্যত একটি রাজনৈতিক ‘গেরুয়া প্রাচীর’ গড়ে তুলেছেন, যা এই নির্বাচনের ফলাফলে সবথেকে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন