‘অভিষেকের শার্পশ্যুটারই শেষ করল চন্দ্রনাথকে’, বিস্ফোরক অর্জুন সিং।
মধ্যমগ্রাম: দোহরিয়ার রাস্তায় ‘গ্লক ৪৭এক্স’ পিস্তলের গর্জনে শুধু চন্দ্রনাথ রথের প্রাণ যায়নি, বরং নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতির রণক্ষেত্র। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে এভাবে ঠান্ডা মাথায় খুনের নেপথ্যে এবার সরাসরি তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দেখছেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর বিস্ফোরক দাবি—এটি কোনও সাধারণ হিংসা নয়, বরং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শার্পশ্যুটারদের দিয়ে করা এক নিখুঁত অপারেশন।
শার্পশ্যুটার ও ‘পুলিশ ঘনিষ্ঠ’ যোগের অভিযোগ
অর্জুন সিংয়ের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা অত্যন্ত নিখুঁত। তিনি বলেন, "এটি নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত খুন। সরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া শার্পশ্যুটাররাই এই কাজ করেছে।" তাঁর সরাসরি অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কিছু পুলিশ আধিকারিক এই ধরণের অপরাধমূলক কাজে মদত দিচ্ছেন। অর্জুনের হুঁশিয়ারি, "সরকার গঠন করতে না পারার হতাশা থেকেই অভিষেক এই ভাড়াটে খুনিদের নিয়োগ করেছেন। তদন্ত হোক, উনিই গ্রেফতার হবেন।"
অতীতের ‘ট্র্যাক রেকর্ড’ টেনে তোপ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে অর্জুন মনে করিয়ে দেন, "একবার অভিষেককে জনসভায় যে চড় মেরেছিল, ঠিক সাত বছর পর তাকে ট্রাক পিষে মরে যেতে হয়। কিষেনজিকেও ব্যবহার করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও একই ছক কাজ করেছে।" তাঁর মতে, শুভেন্দু অধিকারীকে দুর্বল করতেই এই মারণাস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে।
পেশাদার খুনের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ?
পুলিশ ও ফরেন্সিক আধিকারিকদের রিপোর্টেও অর্জুনের ‘পেশাদার খুনি’ তত্ত্বে ইন্ধন মিলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে:
হামলায় অত্যাধুনিক গ্লক ৪৭এক্স (Glock 47X) পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত দাগি অপরাধীদের হাতে থাকে না।
হেলমেট পরিহিত ৪টি মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা চারপাশ থেকে গাড়ি ঘিরে ১০ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে।
চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে এমনভাবে গুলি করা হয়েছে যাতে বাঁচার কোনও সুযোগ না থাকে।
শুভেন্দুর বার্তা ও তদন্তের মোড়
মর্মাহত শুভেন্দু অধিকারী নিজে একে ‘১৫ বছরের জঙ্গলরাজ’-এর ফল বলে অভিহিত করলেও, কর্মীদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। আপাতত পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি (CID) ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে অর্জুন সিংয়ের এই সরাসরি অভিষেক-আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনও ঝড় তোলে কি না, এখন সেটাই দেখার।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন