“ভবানীপুর জয়ের খেসারত দিতে হলো চন্দ্রনাথকে!” শুভেন্দু
“ওর অপরাধ ছিল ও শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক। আমি যদি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে না হারাতাম, তবে ৩৮ বছরের এই যুবককে আজ এভাবে চলে যেতে হতো না।”—বৃহস্পতিবার বারাসত হাসপাতালে এক নিথর লাশের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই নিজের অন্তরের দহন উগরে দিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ময়নাতদন্তের পর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথের দেহ বের করার সময় তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়ল যেমন শোক, তেমনই তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ।
পেশাদার খুনি ও ‘বুকের স্কেচ’ তত্ত্ব:
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের সেই হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডকে নিছক অপরাধ হিসেবে দেখছেন না শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘পলিটিক্যাল মার্ডার’। শুভেন্দুর কথায়, “ঠান্ডা মাথায় ছক কষে সুপারি কিলার এনে এই কাজ করানো হয়েছে। গত ৩-৪ দিন ধরে রেকি করা হয়েছিল। ঘাতকরা এতটাই নিখুঁত ছিল যে, ওঁর বুকের স্কেচ তৈরি করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে”। ১০ বছর ভারতীয় বায়ুসেনায় (Air Force) দেশের সেবা করা চন্দ্রনাথের শরীরে পাঁচটি বুলেট বিদ্ধ হওয়াকে ‘পৈশাচিক’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
তদন্তে গতি ও সিআইডি-র তৎপরতা:
আবেগের পাশাপাশি এদিন প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়েও মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি জানান, রাজ্য পুলিশের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং তদন্ত যে সঠিক পথেই এগোচ্ছে, সেই আশ্বাস তিনি পেয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে উদ্ধার হওয়া একটি সন্দেহজনক বাইক ঘাতকদের হদিস দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় সূত্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিবারের ‘অভিভাবক’ শুভেন্দু:
সরাসরি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে না থাকলেও, শুভেন্দুর অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন হওয়ার কারণে চন্দ্রনাথকে প্রাণ দিতে হলো—এই যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছে তাঁকে। শোকস্তব্ধ হাসিরানী রথ (চন্দ্রনাথের মা) এবং তাঁর স্ত্রী-সন্তানের পাশে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অঙ্গীকার করেন, “আমার দায়িত্ব ওঁর স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে দেখে রাখা। আর খুনিদের সাজা নিশ্চিত করাও আমারই কর্তব্য”।
অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই চন্দ্রনাথের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ৯ মে-র শপথগ্রহণের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মাঝে চন্দ্রনাথের এই অকাল প্রয়াণ যে শুভেন্দুর কাছে এক অপূরণীয় ব্যক্তিগত ক্ষতি, তা এদিন তাঁর চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন