আইএসএলে উঠেও অনিশ্চয়তায় অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার এফসি, ভবিষ্যৎ ঘিরে বাড়ছে জল্পনা
আইএসএলে উঠেও অনিশ্চয়তার মেঘ
বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার জল্পনার কেন্দ্রে ডায়মন্ড হারবার এফসি। সদ্য আই-লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগামী মরসুমে আইএসএলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দলটি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারিয়ে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত এই ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবল মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কয়েক বছরে নজরকাড়া উত্থান
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত ডায়মন্ড হারবার এফসি খুব অল্প সময়েই ভারতীয় ফুটবলে আলোচনায় উঠে আসে। ২০২২ সালে কলকাতা ফুটবল লিগে অভিষেকের পর ধারাবাহিক সাফল্যের পথে এগোয় দলটি। ২০২৪ সালে আই-লিগ ৩ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আই-লিগ ২-এ ওঠে তারা। পরের মরসুমেই আই-লিগ ২ জিতে আই-লিগে জায়গা করে নেয়।
এরপর আই-লিগ জিতে আইএসএলের দরজায় পৌঁছে যায় ডায়মন্ড হারবার এফসি। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ওঠা, অয়েল ইন্ডিয়া গোল্ড কাপ ও বডৌসা কাপ জয়ের মতো সাফল্যও ক্লাবের উত্থানকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ই কি চাপের কারণ?
ক্লাবের একাধিক কর্মী ও সমর্থকের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যদি কোনও ক্লাব সমস্যার মুখে পড়ে, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং তাঁদের পরিবার। তাঁদের বক্তব্য, ডায়মন্ড হারবার এফসি শুধু একটি ফুটবল ক্লাব নয়, বহু তরুণ ফুটবলারের স্বপ্ন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান।
ক্লাব অফিসিয়ালের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডায়মন্ড হারবার এফসি-র এক অফিসিয়াল জানান, আই-লিগ জয়ের আনন্দ পুরোপুরি উদযাপন করার আগেই ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, ডায়মন্ড হারবার এফসি কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্লাব নয়, এই ক্লাবের সঙ্গে হাজার মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে।
তিনি আরও জানান, ফুটবলাররা কঠোর পরিশ্রম করে এই জায়গায় পৌঁছেছেন। রাজনীতির কারণে তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে যাক, তা কেউ চান না। তবে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
ফুটবলারদের মধ্যেও উদ্বেগ
দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার রবিলাল মান্ডির কথায়, তিনি বহু ক্লাবে খেলেছেন, কিন্তু ডায়মন্ড হারবারে যে পরিবেশ পেয়েছেন, তা আলাদা। এখানে খেলোয়াড়দের মানুষ হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁর মতে, একটি দল ভেঙে গেলে শুধু কয়েকজন ফুটবলারের ক্ষতি হয় না, বহু পরিবারের রোজগারও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
রবিলালের আবেদন, আইএসএলে ওঠার স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে, এখন এই দলটাকে টিকিয়ে রাখা বাংলার ফুটবলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্পনসরদের অপেক্ষা, তবু হাল ছাড়ছে না ক্লাব
ক্লাবের এক কর্ণধারের দাবি, ডায়মন্ড হারবার এফসি গড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার প্রতিভাবান ফুটবলারদের সামনে আনা। রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, তা তাঁরা ভাবেননি।
তিনি জানান, পরিস্থিতি সহজ নয়। কিছু স্পনসর ইতিমধ্যেই অপেক্ষার অবস্থানে চলে গিয়েছে। তবে ক্লাব হাল ছাড়ছে না। গ্রামের মাঠ থেকে উঠে আসা বহু তরুণের স্বপ্ন এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত, সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যেতে চান তাঁরা।
সমর্থকদের আবেগ
কল্যাণীর বাসিন্দা তথা ডায়মন্ড হারবার এফসি-র সমর্থক অর্জুন দাস বলেন, এই দল তাঁদের কাছে শুধু একটি ক্লাব নয়, আবেগ। ছোট শহর ও গ্রামের ছেলেরা এখানে সুযোগ পেয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে যদি দলটি সমস্যায় পড়ে, তা বাংলার ফুটবলের জন্য বড় ধাক্কা হবে বলেই মনে করছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ কোন পথে?
এই মুহূর্তে ডায়মন্ড হারবার এফসি-র ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নিয়ে স্পষ্ট উত্তর নেই। ক্লাব কর্ণধার ও লোকসভার সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি বলে জানা যাচ্ছে।
তবে ফুটবলার, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের আশা—মাঠের লড়াইয়ের মতোই এই কঠিন সময়ের লড়াইটাও জিতবে ডায়মন্ড হারবার এফসি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন