রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। এবার সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির ওপর থাবা বসাল কলকাতা পুরসভা। বেআইনি বা প্ল্যান-বহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগে অভিষেকের দুটি ঠিকানায় জোড়া নোটিস পাঠিয়েছে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ।
প্রথম নোটিস: পাঠানো হয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।
দ্বিতীয় নোটিস: পাঠানো হয়েছে বহুল চর্চিত সংস্থা ‘লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে, যা মূলত অভিষেকের সংস্থা হিসেবেই পরিচিত।
কোন কোন ঠিকানায় থাবা পুরসভার? পুরসভার পাঠানো জোড়া নোটিসে দক্ষিণ কলকাতার দুটি হাই-প্রোফাইল ঠিকানার কথা উল্লেখ রয়েছে। একটি হলো ভবানীপুর বিধানসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২১, কালীঘাট রোড এবং অন্যটি ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোড। নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই দুই ঠিকানায় যে নির্মাণ রয়েছে, তার মধ্যে বেশ কিছু অংশ পুরসভার অনুমোদিত নকশা বা প্ল্যান বহির্ভূতভাবে তৈরি করা হয়েছে।
৭ দিনের ডেডলাইন ও পুরসভার কড়া হুঁশিয়ারি
আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পত্তির মালিকরা এই অবৈধ অংশ না ভাঙেন, তবে পুরসভা কেন তা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেবে না, তার কারণ দর্শাতে হবে। ৭ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে, পুরসভা নিজেই ওই অংশ ভেঙে দেবে এবং তার সম্পূর্ণ খরচ উদ্ধার করা হবে সম্পত্তির মালিকের কাছ থেকে। এর পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রও পুরসভায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।‘মাথা নত করব না’, পালটা হুঙ্কার অভিষেকের তৃণমূল সূত্রে খবর, পুরসভার এই নোটিস পাওয়ার পর দলীয় বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে এই বিষয়ে নিজের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁকে নোটিস পাঠানো হোক বা তাঁর বাড়ি ভেঙে ফেলা হোক— কোনো কিছুর সামনেই তিনি মাথা নত করবেন না। বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর যে রাজনৈতিক লড়াই চলছে, তা কোনো পরিস্থিতিতেই থামবে না বলেও বৈঠকে বার্তা দেন তৃণমূল সেনাপতি।
শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পরই এই বড় পদক্ষেপ? উল্লেখ্য, গত শনিবার ফলতার নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরে আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, কলকাতা পুরসভার কাছ থেকে তিনি অভিষেকের সম্পত্তির তালিকা আনিয়েছেন। শুভেন্দুর অভিযোগ ছিল, কলকাতায় ‘লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে এবং আমতলায় রয়েছে প্রাসাদের মতো অফিস, যার সবেরই হিসাব নেওয়া হবে। ঘটনাচক্রে, মুখ্যমন্ত্রীর সেই হুঁশিয়ারির পরেই পুরসভার এই জোড়া নোটিস পাঠানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও এই ‘লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এনে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি। এবার সেই সংস্থার সম্পত্তির ওপরই আইনি কোপ বসাল কলকাতা পুরসভা।
.png)