ডায়মন্ড হারবার: উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে সামনে দেখে কদিন আগেই বুক চিতিয়ে হুঙ্কার দিয়েছিলেন— ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি!’ দাবি করেছিলেন, দিল্লির কোনও শক্তির কাছে মাথা নত করবেন না। কিন্তু ভোটের আসল পরীক্ষাগারে পৌঁছনোর আগেই যেন খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূলের সেই দাপুটে নেতা জাহাঙ্গীর খানের ‘পুষ্পা’ ইমেজ। ২১ মে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতায় হাই-ভোল্টেজ পুনর্নির্বাচন। আর তার ঠিক দু'দিন আগে, মঙ্গলবার শেষ প্রচারের দিনে ভোট ময়দান তো ছাড়লেনই, একেবারে রাজনীতি থেকেই সন্ন্যাস নেওয়ার বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন জাহাঙ্গীর!
‘গাছে তুলে মই কেড়েছেন ভাইপো!’, ফলতা থেকে শুভেন্দুর তীব্র কটাক্ষ:
এদিকে শেষ লগ্নে ফলতার গড়ে মেগা রোড শো করে বিজেপির দাপট দেখালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই ভোট ময়দান থেকে পলাতক ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীরকে তীব্র ভাষায় বিঁধলেন তিনি। নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিয়ে শুভেন্দু বলেন, "পুষ্পা বলেছিলেন ঝুঁকেগা নেহি। ভাইপোর ভরসায় লড়েছিলেন। তিনি এখন এমন ঝুঁকে পড়েছেন যে বলছেন 'আমি সরে গেলাম'। সরিয়ে তো আপনাকে দিতই মানুষ ২১ তারিখ। আপনি তো পোলিং এজেন্টই পেতেন না। গাছে তুলেছিলেন মাননীয় ভাইপো। এখন ভাইপোবাবুর দেখা নেই। পুষ্পা আজ বলছে 'আমি পগারপার'। নির্বাচনে লড়ছেই না।"
তৃণমূলের ‘গোপন চাল’ নিয়ে ফলতাবাসীকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর:
জাহাঙ্গীর সরে দাঁড়ালেও ফলতার ভোটারদের এক মুহূর্তের জন্যও হালকা না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি সতর্ক করে বলেন, "আপনাদের বলব, এটা তৃণমূলের কৌশল, যাতে আপনারা ভাবেন জিতে তো গেছি, ভোট না দিলেও চলবে। ১০ বছর পর ভোট দেওয়ার স্বাদ পেয়েছেন। ১০০ শতাংশ ভোট চাই। ৩ নম্বর বোতাম চিপে (বিজেপিকে) ভোট চাই। মুখ্যমন্ত্রী আসবে ২৪ মের পর। হাতে কাজ দেবে, পেটে ভাত দেবে, মাথায় ছাদ দেবে। ফলতাকে নতুন করে দেবাংশুর নেতৃত্বে সাজিয়ে দেবো আমরা।"
কেন আচমকা এই রাজনৈতিক সন্ন্যাস? কী বলছেন জাহাঙ্গীর?
মঙ্গলবার তড়িঘড়ি এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জাহাঙ্গীর খান দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তিনি বলেন, 'আমাদের রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতাকে বিশেষ প্যাকেজ দেবেন বলে জানিয়েছেন। আমি চাই ফলতার উন্নয়ন হোক। শান্তি থাকুক। সোনার ফলতা তৈরি হোক। তাই আমি সরে দাঁড়িয়েছি। রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগ রাখতেও চাই না।'
গত ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোটের দিন বুথে আতর ছড়ানো, ইভিএম-এ টেপ লাগানো থেকে শুরু করে ভোটারদের হেনস্থা করার গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ উঠেছিল এই জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। যার জেরে নির্বাচন কমিশন সেখানে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট মত, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং পুনর্নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় বুঝেই ভোটের দু’দিন আগে ‘উন্নয়ন ও শান্তি’র দোহাই দিয়ে ময়দান ছাড়লেন তৃণমূলের এই ‘ভোট ম্যানেজার’।
.png)