কলকাতা পুলিশে বড় রদবদল: ৯৩ পুলিশকর্মী বদলি, নির্বাচনের পর প্রশাসনিক অন্দরে তৎপরতা
কলকাতা পুলিশে বদলি ৯৩ কর্মী
কলকাতা পুলিশে বড়সড় রদবদল
নতুন সরকার গঠনের পরেই কলকাতা পুলিশের অন্দরে বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশের ৯৩ জন কর্মীকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হচ্ছে। এই তালিকায় একাধিক ইনস্পেক্টর, সাব-ইনস্পেক্টর এবং কনস্টেবল রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। TV9 বাংলা ও The Wall-এর প্রতিবেদনেও কলকাতা পুলিশের ৯৩ জন আধিকারিক/কর্মী বদলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনের পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ
সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রশাসনের অন্দরে তৎপরতা বেড়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, নির্বাচনের সময় কিছু পুলিশকর্মীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ, নিরপেক্ষতার বদলে কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই কারণেই তাঁদের কাজকর্ম খতিয়ে দেখা হচ্ছিল বলে সূত্রের দাবি।
একাধিক স্তরে বদলির সিদ্ধান্ত
শুধু থানাস্তর নয়, লালবাজারের বিভিন্ন শাখার কয়েকজন আধিকারিকও বদলির তালিকায় রয়েছেন বলে খবর। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের একাংশে কড়া বার্তা পৌঁছে দিতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে নির্বাচন কমিশনও ভোটপর্বে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বদলির নির্দেশ দিয়েছিল; এপ্রিল মাসে ১৪৯ জন ইনস্পেক্টর ও সাব-ইনস্পেক্টরকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরানোর নির্দেশের কথাও প্রকাশ্যে এসেছিল।
অভিযোগ কী ছিল?
সূত্রের দাবি, ভোটের সময় কয়েকজন দাগী অভিযুক্ত এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে অপরাধ দমনে গাফিলতির অভিযোগও প্রশাসনিক মহলে আলোচনায় এসেছে। যদিও এই অভিযোগগুলি এখনও সরকারি ভাবে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
নবান্ন ও লালবাজারে জোর চর্চা
এই বদলির সিদ্ধান্তের পর নবান্ন ও লালবাজারে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরকার বদলের পর প্রশাসনিক রদবদল নতুন ঘটনা নয়। তবে একসঙ্গে ৯৩ জন পুলিশকর্মীকে বদলির সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্ট করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আগামী দিনে আরও রদবদল?
প্রশাসনিক মহলের নজর এখন আগামী দিনের দিকে। কলকাতা পুলিশের এই বদলির পর রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য স্তরেও আরও রদবদল হয় কি না, তা নিয়েই জল্পনা বাড়ছে। নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে কী ধরনের কড়া বার্তা দেয়, সেটাই এখন দেখার।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন