শূন্যের গেরো কাটিয়ে বিধানসভায় ফিরবে বামেরা? ডোমকল-সাগরদিঘিতে জারি লড়াই
ডোমকল-সাগরদিঘিতে বামেদের লড়াই, বিধানসভায় ফিরবে লাল পতাকা?
গত বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া বামেরা কি এবার বিধানসভায় খাতা খুলতে পারবে? ২৯৩টি আসনে ভোট গণনার প্রাথমিক যে ট্রেন্ড সামনে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে রাজ্যজুড়ে বিজেপির প্রবল দাপট এবং তৃণমূলের বিপর্যয়ের মাঝেই কিছুটা আশার আলো দেখছে আলিমুদ্দিন। একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী যখন হারের শঙ্কায় কাঁপছেন, তখন মুর্শিদাবাদের দুটি আসন বামেদের জন্য ‘লাইফলাইন’ হয়ে উঠতে পারে।
ডোমকলে মুস্তাফিজুরের দাপট:
মুর্শিদাবাদের ডোমকল কেন্দ্রে বর্তমানে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বাম সমর্থকরা। সিপিএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে ১০০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগেই এই এলাকায় তৃণমূলের একাধিক পার্টি অফিস দখল এবং ঘাসফুল শিবির থেকে বামেদের দিকে কর্মীদের গণজোয়ার লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ইভিএম গণনার শুরু থেকেই সেই মেজাজ বজায় রেখেছেন মুস্তাফিজুর।
সাগরদিঘিতে চাপে তৃণমূল:
অন্যদিকে, সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রেও বিপাকে শাসক দল। সেখানে বাম সমর্থিত জোট প্রার্থী মশিউর রহমান আপাতত লিড দিচ্ছেন। বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের ভূমিকা। সকালেই তিনি কার্যত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, তিনি সম্ভবত জিতবেন না। এমনকি স্ট্রং রুম নিয়েও একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। গণনার ট্রেন্ড আপাতত বাইরনের সেই হারের আশঙ্কাকেই সত্যি বলে প্রমাণ করছে।
কেরলে বড় ধাক্কা:
বাংলায় যখন খাতা খোলার লড়াই চলছে, তখন বামেদের শেষ দুর্গ কেরলেও অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। ভোট গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী, সেখানে পিনারাই বিজয়নের সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় ফেরার পথে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট (UDF)। এক্সিট পোলের পূর্বাভাস মিলিয়ে দিয়ে দক্ষিণের এই রাজ্যে বামেরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।
এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত ডোমকল ও সাগরদিঘির হাত ধরে বাংলার বিধানসভায় লাল পতাকা ফিরবে কি না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন