শুভেন্দুর শপথের দিনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় বদল মমতার, ‘প্রাক্তন’ শব্দ এড়িয়ে নতুন বায়ো ঘিরে চর্চা!
মমতার নয়া পরিচিতি:
বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। শনিবার বেলা গড়াতেই সেই পরিচয়ে বদল আসে। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নতুন পরিচয়েও কোথাও ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ শব্দটি ব্যবহার করেননি তিনি। ‘প্রাক্তন’ তকমাটি সযত্নে এড়িয়ে গিয়ে তিনি শুধু নিজের কার্যকালের মেয়াদটুকু উল্লেখ করেছেন। সমাজমাধ্যমে মমতার পরিমার্জিত পরিচয়টি হলো— ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (পঞ্চদশ, ষোড়শ এবং সপ্তদশ বিধানসভা)’।
প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক জট:
সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জিতে রাজ্যে পালাবদল ঘটিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল থমকে গিয়েছে ৮০টি আসনে। খাস ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা। সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী এরপর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়াই দস্তুর। কিন্তু ১০০টিরও বেশি কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই জয়কে তিনি মান্যতা দিচ্ছেন না এবং আগামী দিনে আইনের পথে হাঁটবেন।
ভোটের ফল প্রকাশের পর তাঁর এই পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে রাজ্যে এক অভূতপূর্ব শাসনতান্ত্রিক শূন্যতা তৈরি হয়। অবশেষে সাংবিধানিক বিধি মেনে গত ৭ মে সরকারের মেয়াদ ফুরোয় এবং ওই রাতেই সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন রাজ্যপাল আর.এন রবি। খাতায়-কলমে বিধানসভার বিলুপ্তি ঘটলেও শনিবার সকাল পর্যন্ত নিজের পুরনো ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পরিচয়ই ধরে রেখেছিলেন মমতা। অবশেষে শুভেন্দুর শপথের দিন সমাজমাধ্যমে পরিচয়ের এই পালাবদল সম্পন্ন হলো।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন