বিজেপি জিততেই রুদ্রনীল ঘোষের বাড়িতে টলিউড সেলেবদের ভিড়, কৌশিক-ইন্দ্রদীপের শুভেচ্ছা ঘিরে জল্পনা
রুদ্রনীলের বাড়িতে টলিউড সেলেব, জয়ের পর শুভেচ্ছার বন্যা
জয়ের পর রুদ্রনীলের বাড়িতে টলিউড সেলেবরা
কলকাতা: বিজেপির বিজয়ী প্রার্থী তথা টলিউড অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের জয় ঘিরে এবার টলিপাড়ায় নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটে জেতার পর থেকেই টলিউডের বহু শিল্পী তাঁকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে দাবি করেন রুদ্রনীল। আর এবার তাঁর বাড়িতেও হাজির হলেন টলিউডের পরিচিত মুখেরা।
কে কে গেলেন রুদ্রনীলের বাড়িতে?
বুধবার সন্ধ্যায় রুদ্রনীল ঘোষের বাড়িতে পৌঁছে যান পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। রুদ্রনীলকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনজনকে খোশ আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা যায়।
এই সাক্ষাৎ ঘিরে টলিউডের অন্দরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
“কতটা কষ্ট করেছে রুদ্র, কেউ জানে না”
রুদ্রনীল ঘোষকে নিয়ে আবেগপ্রবণ মন্তব্য করেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে রুদ্রনীলের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, রুদ্রনীল অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, কিন্তু কাউকে তা বুঝতে দেননি।
কৌশিকের কথায়, “কতটা কষ্ট করেছে রুদ্র, কতটা বাধা বিপত্তির মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, সেটা কেউ জানে না। ও মাথা উঁচু করে ছিল। তাই ঈশ্বর ওকে আশীর্বাদ করেছে।”
টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে প্রশ্ন
একসময় রুদ্রনীল ঘোষকে টলিউডে কার্যত কোণঠাসা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। গেরুয়া শিবিরের মুখ হওয়ায় তাঁকে নাকি কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল—এমন কথাও টলিপাড়ায় শোনা যেত। যদিও সেই বিতর্ক নিয়ে নানা মত রয়েছে।
রুদ্রনীল নিজেও জানিয়েছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে রাজনীতি এবং তথাকথিত ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে তিনি টলিউডের মানুষজনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান।
শিল্পের জায়গায় রাজনীতি নয়, বার্তা কৌশিকের
রুদ্রনীলের হাত ধরে টলিউডে রাজনীতি ও ব্যান সংস্কৃতির অবসান হবে কি না, সেই প্রশ্নে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, শিল্পীদের কাজের জায়গায় রাজনীতি ঢোকা উচিত নয়।
তাঁর বক্তব্য, “শিল্পী শিল্পীর মতো কাজ করবে, স্টুডিও চত্বরে শিল্পীদের সঙ্গে রাজনীতি জড়াবেন না।”
টলিউডে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?
রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউডের অন্দরেও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। রুদ্রনীল ঘোষের জয়ের পর একাধিক শিল্পীর শুভেচ্ছা বার্তা এবং তাঁর বাড়িতে সেলেবদের উপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
রুদ্রনীলের বার্তা কী?
রুদ্রনীল ঘোষ আগেই জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার পথে যেতে চান না। বরং টলিউডে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক করা এবং শিল্পীদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন কমানোই তাঁর লক্ষ্য। তবে বাস্তবে সেই পরিবর্তন কতটা সম্ভব, তা সময়ই বলবে।
নজর এখন টলিউডের দিকে
সব মিলিয়ে রুদ্রনীল ঘোষের জয় শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, টলিউডের অন্দরেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনৈতিক প্রভাব, কাজের পরিবেশ এবং শিল্পীদের অবস্থান কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন