নিচুতলার ‘দাদাগিরি’ ও ‘তোলাবাজি’তেই কি তৃণমূলের ভরাডুবি? বিস্ফোরক সৌগত রায়ের আত্মসমীক্ষা
তৃণমূলের হারে ‘দাদাগিরি’–‘তোলাবাজি’র অভিযোগ, বিস্ফোরক সৌগত
তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে আত্মসমীক্ষা
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে শুরু হয়েছে আত্মসমীক্ষা। যেখানে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও এই ফলাফলকে পরাজয় হিসেবে মানতে নারাজ, সেখানে দলেরই বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় হারের কারণ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
‘দাদাগিরি’ ও ‘তোলাবাজি’কেই দায়?
এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সৌগত রায় জানিয়েছেন, তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। তাঁর মতে, হিন্দু মেরুকরণ, প্রবল প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া, এবং সবথেকে বড় কথা, নিচুতলার নেতাদের ‘দাদাগিরি’ ও ‘তোলাবাজি’ সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
সৌগত রায় কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন, স্থানীয় স্তরের নেতাদের আচরণ যে এতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তার গভীরতা দল আগে থেকে বুঝতে পারেনি।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভই কি বড় ফ্যাক্টর?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় স্তরে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’, প্রভাব খাটানো এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠছিল। সৌগত রায়ের এই মন্তব্যে সেই অভিযোগই যেন নতুন করে মান্যতা পেল।
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নিচুতলার সংগঠন ও নেতাদের ভূমিকা নিয়ে দলীয় অস্বস্তি এখন আর চাপা থাকছে না।
নির্বাচন কমিশনকে দায় দেওয়ার পথেও নরম সৌগত
পরাজয়ের পর তৃণমূলের একাংশ যেখানে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, সেখানে সৌগত রায় তুলনামূলকভাবে সংযত মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কিছু অতি-সক্রিয়তা থাকলেও, মোটের ওপর ভোটপ্রক্রিয়া ছিল শান্তিপূর্ণ।
এমনকি তিনি এটাও বলেন যে, নির্বাচনে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি, যা ইঙ্গিত দেয় যে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করার পথে তিনি হাঁটছেন না।
মমতার উপর এখনও আস্থা
তবে এই আত্মসমীক্ষার মাঝেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেননি সৌগত রায়। বরং তিনি মমতাকে ‘স্ট্রিট ফাইটার’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে তৃণমূল আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
অর্থাৎ, হারের কারণ নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেও, নেতৃত্বের প্রশ্নে তিনি এখনও মমতার পাশেই রয়েছেন।
তৃণমূলের অন্দরে বাড়ল অস্বস্তি
সৌগত রায়ের এই মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ তুলে আসছিল, দলের এক বর্ষীয়ান নেতা তা অনেকটাই প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিলেন।
ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই আত্মসমীক্ষার ভিত্তিতে তৃণমূল কি সংগঠনগত বদল আনবে, নাকি বিষয়টি শুধুই রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন