কঠিন সময়ে পাশে থাকার প্রাপ্তি? বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন হাসিনার
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয় এবং রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে এই শুভেচ্ছাবার্তাটি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুই বাংলার ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সমীকরণে এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কী বলা হয়েছে বার্তায়?
আওয়ামী লীগের তরফে দেওয়া ওই পোস্টে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সকল সদস্যের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্যও প্রার্থনা করেছেন তিনি। শেখ হাসিনা তাঁর বার্তায় আশাপ্রকাশ করেন যে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। সেই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে থাকা দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই পোস্টে।
সৌজন্যের নেপথ্যের সমীকরণ:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শুভেচ্ছাবার্তা নিছকই কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক সৌজন্য নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক অতীতের এক গভীর সমীকরণ। উল্লেখ্য, গত অগাস্ট মাসে বাংলাদেশে যখন তীব্র গণ-আন্দোলন শুরু হয় এবং পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে, সেই সময় শেখ হাসিনার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে হাসিনাকেই বাংলাদেশের 'বৈধ প্রধানমন্ত্রী' বলে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেই কঠিন সময়ে পাশে থাকার বার্তা ভোলেননি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। আর তাই, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠন এবং শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার পর এই অভিনন্দন বার্তা আদতে দুই বাংলার দীর্ঘমেয়াদী সুসম্পর্ক এবং কূটনৈতিক বোঝাপড়া বজায় রাখারই এক সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন