‘I-PAC-এর লেখা স্ক্রিপ্ট পড়তে বাধ্য হয়েছেন মমতা’, বামেদের সঙ্গে জোট বার্তা নিয়ে বিস্ফোরক সুপ্রিয়

 

বামেদের সঙ্গে জোট বার্তায় নতুন বিতর্ক

বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বামেদের সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বক্তব্যের পরই দলের অন্দর থেকে উঠে এল তীব্র প্রতিক্রিয়া। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সুপ্রিয় চন্দ দাবি করেছেন, এই ধরনের বক্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান হতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, I-PAC-এর লেখা স্ক্রিপ্ট পড়তে বাধ্য হয়েছেন মমতা।

“পুরনো কর্মীদের কাছে অপমানজনক”

সুপ্রিয় চন্দের বক্তব্য, ১৯৯৮ সাল থেকে যাঁরা তৃণমূলের হয়ে লড়াই করেছেন, বিশেষ করে বাম রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে দলকে শক্তিশালী করেছেন, তাঁদের কাছে বামেদের সঙ্গে হাত মেলানোর বার্তা অত্যন্ত অসম্মানজনক। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের কর্মীদের কোণঠাসা করা হয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক কৌশলের নামে পুরনো সংগঠনের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

I-PAC নিয়ে সরাসরি অভিযোগ

সুপ্রিয় বলেন, “আমি মনে করি এই প্রস্তাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব হতে পারে না। উনি যে মানের নেত্রী, তাঁর বয়ান এটা নয়।” তাঁর দাবি, I-PAC-এর প্রভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন বক্তব্য রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এই মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও I-PAC-এর ভূমিকা নিয়ে ফের বিতর্ক জোরালো হয়েছে।

অভিষেক ও I-PAC-কে ঘিরে চাপ বাড়ছে

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূলের একাধিক যুব নেতা প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং I-PAC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। কলকাতা থেকে জেলা—বিভিন্ন স্তরে দলবিরোধী মন্তব্য সামনে আসছে। ইতিমধ্যেই অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় পাঁচ নেতাকে শোকজ করেছে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে শৃঙ্খলা বনাম ক্ষোভ

রাজনৈতিক মহলের মতে, সুপ্রিয় চন্দের মন্তব্য শুধু বামেদের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েই নয়, তৃণমূলের ভিতরে পুরনো বনাম নতুন নেতৃত্বের দ্বন্দ্বকেও সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে দল শৃঙ্খলার বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে কর্মী-নেতাদের একাংশ প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে এই বিতর্ক তৃণমূলের সাংগঠনিক রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্যসমূহ