সাসপেন্ড হয়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ঋজু দত্ত, দুর্নীতি থেকে I-PAC—একাধিক অভিযোগে উত্তাল রাজনীতি
সাসপেন্ডেড ঋজুর বিস্ফোরক অভিযোগ
সাসপেন্ড হওয়ার পরেই বিস্ফোরক ঋজু
তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরেই দলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ঋজু দত্ত। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তৃণমূলের তরফে ঋজু দত্ত, কোহিনূর মজুমদার ও কার্তিক ঘোষের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
“চাকরি বিক্রি প্রমাণিত”—দাবি ঋজুর
সাসপেনশনের পর ঋজু দত্ত তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হন। তাঁর দাবি, “চাকরি বিক্রি হয়নি” বলা সবচেয়ে বড় পাপের সমান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাড়ির প্ল্যান থেকে নির্মাণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাকা দিতে হয়। এমনকি বাড়িতে কমোড বসাতেও তৃণমূলের লোকেরা টাকা নেয় বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। এই অভিযোগগুলি ঋজু দত্তের ব্যক্তিগত বক্তব্য; তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগগুলির পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্টভাবে সামনে আসেনি।
তৃণমূলকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা
ঋজু দত্তের সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কলকাতার রাস্তায় বেরোলে মনে হচ্ছে “ভারত জিতেছে, পাকিস্তান হেরেছে।” তাঁর বক্তব্য, মানুষ “নতুন স্বাধীনতার স্বাদ” পেয়েছে এবং এখন মন খুলে কথা বলতে পারছে। এই মন্তব্য ঘিরেই তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
“মন সায় না দিলেও বাধ্য হয়ে করতাম”
ঋজু আরও দাবি করেছেন, আরজি কর ও সন্দেশখালির মতো ইস্যুতে তিনি দলের মুখপাত্র হিসেবে তৃণমূলের হয়ে লড়াই করেছিলেন, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সবসময় তা মেনে নিতে পারেননি। তাঁর কথায়, দল বলে দিত বলেই তিনি বিতর্কে অংশ নিতেন এবং অনেক বিষয়ে মন সায় না দিলেও বাধ্য হয়ে দলকে ডিফেন্ড করতেন।
I-PAC নিয়েও গুরুতর অভিযোগ
ঋজু দত্তের আক্রমণের কেন্দ্রে এসেছে I-PAC-ও। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল নয়, কার্যত I-PAC-ই দল চালাত। এমনকি টিকিটের জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁর কাছেও ৫০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগগুলিও ঋজু দত্তের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; স্বাধীনভাবে তা প্রমাণিত নয়।
বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না, তবে ধন্যবাদ জানালেন
ঋজু দত্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনও আবেদন করেননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও উত্তর কলকাতার বিজেপি নেতাদের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, সমস্যার সময়ে বিজেপির কয়েকজন নেতা তাঁর পরিবারকে পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করেছেন।
বিজেপির খোঁচা, তৃণমূলের অস্বস্তি
ঋজু দত্তের মন্তব্যের পর বিজেপিও তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাসপেনশনের পর ঋজুর এই বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূলের অন্দরমহলের অস্বস্তি আরও বাড়াতে পারে। দলের ভেতরের ক্ষোভ, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন