‘চুল কাটতে চাইত না, স্কুল যেতে কান্না!’ কাঁথির ‘বুবাই’ থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
কাঁথির ‘বুবাই’ আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী
| শুভেন্দুর শৈশবের অজানা গল্প, কী বলছেন কাঁথির পুরনো পড়শিরা? |
আজ তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কাঁথির মানুষ এখনও তাঁকে চেনেন ছোটবেলার নাম ‘বুবাই’ হিসেবেই। শুভেন্দু অধিকারীর শপথের পর তাঁর ছোটবেলার নানা স্মৃতি ফিরে আসছে পড়শি, পরিচিত এবং এলাকার মানুষের কথায়।
কাঁথির মানুষদের কাছে শুভেন্দু অধিকারীর সাফল্য শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, এটি তাঁদের ঘরের ছেলের বড় হয়ে ওঠার গল্প।
চিত্তরঞ্জন মহাপাত্রর বাড়িতে শৈশব
কাঁথির চিত্তরঞ্জন মহাপাত্রর বাড়িতেই শুভেন্দু অধিকারীর শৈশবের বড় একটা সময় কেটেছে। শিশির অধিকারী এগরার আদি বাড়ি ছেড়ে তখন এই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেই বাড়ির উঠোন, দালান, ঘর আর মাঠ জুড়েই বড় হয়ে ওঠেন ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী।
পড়শিদের কথায়, ছোটবেলার শুভেন্দু ছিলেন শান্ত স্বভাবের, মিশুকে এবং পরিচিত সবার প্রিয়।
‘চুল কাটতে চাইত না, স্কুলে যেতে কান্না’
বাড়ির মহিলাদের স্মৃতিতে এখনও স্পষ্ট ছোটবেলার ‘বুবাই’। তাঁদের কথায়, শুভেন্দু ছোট থেকেই খুব শান্ত ছিল। ধবধবে ফর্সা, মাথা ভর্তি চুল—আর সেই চুল কাটতেই নাকি চাইত না। স্কুলে যাওয়ার সময় কান্নাকাটি করত, তবে মায়ের বকুনির ভয়েই শেষ পর্যন্ত স্কুলে যেত।
এই সব ছোট ছোট স্মৃতিই আজ নতুন করে আবেগে ভাসাচ্ছে কাঁথির মানুষকে।
ছোট থেকেই নেতৃত্বের ছাপ
পড়াশোনাতেও বরাবর ভালো ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পড়শিদের দাবি, ছোট থেকেই তাঁর মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যেত। খেলাধুলো হোক বা পাড়ার কোনও আয়োজন—সবার আগে এগিয়ে থাকতেন তিনি।
পরবর্তীকালে সেই নেতৃত্বের গুণই তাঁকে ছাত্র রাজনীতি থেকে রাজ্য রাজনীতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।
ছাত্র রাজনীতি থেকে বড় পথচলা
আটের দশকের শেষ দিকে কাঁথির প্রভাতকুমার কলেজে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় শুভেন্দু অধিকারীর। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের পথচলা।
১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর হন তিনি। পরে চেয়ারম্যান পদেও বসেন। ২০০৯ সালে তমলুক থেকে সাংসদ, ২০১৬ সালে নন্দীগ্রামের বিধায়ক, তারপর বিরোধী দলনেতা—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপিতে যোগ, নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর
২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর অমিত শাহর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসেন। এরপর ২০২৬ সালে ভবানীপুরেও জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি।
শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
কাঁথির মানুষের গর্ব
শুভেন্দুর শপথের পর কাঁথির মানুষদের মুখে একটাই কথা—
“আমরা জানতাম, বুবাই একদিন অনেক বড় জায়গায় পৌঁছবেই!”
কাঁথির সেই ছোট্ট ‘বুবাই’-এর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া তাই এলাকার মানুষের কাছে আবেগ, গর্ব এবং স্মৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন