জোড়া কেন্দ্রে জয় শুভেন্দুর! নন্দীগ্রাম না ভবানীপুর, কোন আসন ছাড়বেন বিরোধী নেতা?

 নন্দীগ্রাম না ভবানীপুর, কোন কেন্দ্র ছাড়বেন শুভেন্দু?


জোড়া কেন্দ্রে জয় শুভেন্দুর

কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক চমক দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাস্ত করেছেন বলে দাবি, অন্যদিকে নন্দীগ্রামেও ১০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। ফলে এবার প্রশ্ন উঠছে—বিধানসভায় পা রাখতে হলে কোন কেন্দ্র নিজের কাছে রাখবেন শুভেন্দু, আর কোন আসন ছাড়বেন?

সাংবিধানিক নিয়ম কী বলছে?

নিয়ম অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী একাধিক আসন থেকে জয়ী হলে তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি আসন রেখে অন্য আসনটি ছাড়তে হয়। সেই কারণেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর শুভেন্দু অধিকারীর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। নন্দীগ্রাম না ভবানীপুর—কোন কেন্দ্র তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রধান মঞ্চ হবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

বুধবার নন্দীগ্রামে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছলে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তাঁকে একটি আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত তিনি একা নেবেন না।

শুভেন্দুর কথায়, “সব সিদ্ধান্ত তো আমি নিতে পারি না। আমার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা যেটা ঠিক করবেন, সেটাই হবে। আমি শৃঙ্খলাপরায়ণ, দলের নেতারা যা বলবেন, তাই হবে।”

ভবানীপুর নিয়েই বেশি জল্পনা

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শুভেন্দু হয়তো ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রাখতে পারেন। কারণ ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নন্দীগ্রাম তাঁর পুরনো রাজনৈতিক মাটি, যেখানে তাঁর সংগঠনিক ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী।

নন্দীগ্রামবাসীকে আশ্বাস

নন্দীগ্রামের মানুষকে এদিন একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, গোকুলনগর হাসপাতালের আধুনিকীকরণ থেকে শুরু করে পানীয় জলের সংযোগ—বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর দাবি, আগামী ৬ মাসের মধ্যে পানীয় জলের সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিধায়ক থাকুন বা না থাকুন, পাশে থাকার বার্তা

শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, তিনি বিধায়ক থাকুন বা না থাকুন, নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকবেন। সারা বছর নন্দীগ্রামের বিভিন্ন উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ দিনে তাঁকে মানুষের পাশে দেখা যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

‘মুখ্যমন্ত্রী চাই’ স্লোগানে উচ্ছ্বাস

নন্দীগ্রামের ভিড় থেকে এদিন শুভেন্দুকে ঘিরে “আপনাকেই মুখ্যমন্ত্রী চাই” স্লোগান ওঠে বলেও জানা যায়। যদিও শুভেন্দু নিজে আপাতত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাখছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, দলের নির্দেশই শেষ কথা।

এখন নজর ১০ দিনের সিদ্ধান্তে

সব মিলিয়ে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র নিয়েই রাজনৈতিক জল্পনা চরমে। কোন আসন ছাড়বেন শুভেন্দু অধিকারী, আর কোন আসন ধরে রেখে বিধানসভায় প্রবেশ করবেন—আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তার উত্তর মিলতে পারে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড় মোড়! গ্রেফতার ৩ ভাড়াটে খুনি

নিউটাউনে TMC-BJP সংঘর্ষ, বিজয় মিছিলে হামলার অভিযোগে চাঞ্চল্য! বিজেপি কর্মীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জ

'৪ তারিখের পর দিল্লির বাবারা...', চন্দ্রনাথের মায়ের মনে পড়ছে অভিষেকের সেই থ্রেট'!