বিপর্যয়ের পর বিদ্রোহ দমনে কড়া কালীঘাট! ঋজু-কোহিনুরদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
কলকাতা: নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেই তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ২০৭ আসনের ঝড়ের সামনে তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে থমকে যেতেই শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বৃহস্পতিবার ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষকে শো-কজ (Show Cause) করল তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি।
ডেরেকের ২৪ ঘণ্টার চরম হুঁশিয়ারি:
দলের তরফে কড়া হাতে হাল ধরেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। মুখপাত্রদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। ডেরেকের পাঠানো এই নোটিসে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মুখ খুলে শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, ফল প্রকাশের পর থেকেই এই পাঁচ মুখপাত্র সরাসরি নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ও সংবাদমাধ্যমে সরব হয়েছিলেন।
বিদ্রোহীদের হাতে ‘৫ পাতার’ জবাব:
দল কড়া বার্তা দিলেও পিছু হঠতে নারাজ শো-কজ হওয়া নেতারা। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কেউ দু’পাতা, কেউ আবার সাড়ে চার পাতার কড়া জবাবি চিঠি তৈরি করে ফেলেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা অন্যায় কিছু বলেননি, বরং নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভের কথাই তুলে ধরেছেন। শো-কজ হওয়া এক মুখপাত্রের বিস্ফোরক দাবি, “বিদায়ী মন্ত্রিসভার তিন সদস্যও ফোন করে আমাদের সমর্থন জানিয়েছেন। আমরা দলের ভালোর জন্যই অপ্রিয় সত্যিটা বলেছি।”
ভবিষ্যৎ কী?
শনিবার যখন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন তৃণমূলের এই ‘ঘরের লড়াই’ দলকে আরও কোণঠাসা করছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন পেরনোর পর তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিদ্রোহী পাঁচ মুখপাত্রের বিরুদ্ধে দল থেকে বহিষ্কারের মতো কোনো কড়া সিদ্ধান্ত নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন