দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ তৃণমূলের, কোহিনুর মজুমদার-সহ ৩ মুখপাত্র ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর কড়া পথে তৃণমূল
বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলবিরোধী মন্তব্য করার অভিযোগে কোহিনুর মজুমদার-সহ তিন মুখপাত্রকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল দল।
তৃণমূল সূত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোহিনুর মজুমদার, ঋজু দত্ত এবং কার্তিক ঘোষকে ছয় বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
আগে শো-কজ, এবার সাসপেনশন
নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে একাধিক নেতা-নেত্রীর মুখে বেসুরো সুর শোনা যাচ্ছিল। দলের কৌশল, রণনীতি এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন মুখপাত্রের বিরুদ্ধে।
এরপরই পাঁচ মুখপাত্রকে শো-কজ করে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে এবার সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
কারা শো-কজ নোটিস পেয়েছিলেন?
দলের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির অন্যতম সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন পাঁচ মুখপাত্রের কাছে নোটিস পাঠান বলে জানা যায়। যাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছিল তাঁরা হলেন—ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষ।
নোটিসে তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
ভরাডুবির পর প্রকাশ্যে ক্ষোভ
তৃণমূল সূত্রের দাবি, নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকেই কয়েকজন মুখপাত্র প্রকাশ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও ভোটের রণনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁদের বক্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেই মনে করছে নেতৃত্বের একাংশ।
সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে মন্তব্যের পরই দল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে।
দলের বার্তা স্পষ্ট
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সাসপেনশনের মাধ্যমে তৃণমূল স্পষ্ট বার্তা দিল—নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেও দলবিরোধী মন্তব্য বা প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা বরদাস্ত করা হবে না। আগামী দিনে দলের অন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন