ভোট গণনা ঘিরে নোয়াপাড়ায় উত্তেজনা! তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের ওপর হামলার অভিযোগ
নোয়াপাড়ায় তৃণাঙ্কুরকে মারধরের অভিযোগ, উত্তেজনা চরমে
ভোট গণনা ঘিরে উত্তপ্ত নোয়াপাড়া
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনাকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এই আবহেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র এবং তার আশপাশের এলাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের ওপর হামলার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
কী অভিযোগ উঠছে?
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভোট গণনাকেন্দ্রের সামনে হঠাৎই উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, বিজেপি সমর্থকদের একাংশ তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন বলে খবর। তাঁর সঙ্গে থাকা দলীয় কর্মীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল সমর্থকরা সরাসরি বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংকে দায়ী করেছেন। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে।
পানিহাটিতেও নতুন অভিযোগ
নোয়াপাড়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পানিহাটির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকেও আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় বিজেপি সমর্থকদের দখলে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু দখলই নয়, ওই কার্যালয়ে বিজেপির পতাকা টাঙানো হয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এলাকায় কড়া পুলিশি নজরদারি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টহলদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দল ও সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেন বাড়ছে উত্তেজনা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ভোট গণনার ট্রেন্ড সামনে আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজয়োল্লাস শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন, সেখানে কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। তবে সেই আনন্দ অনেক ক্ষেত্রেই উত্তেজনায় রূপ নিচ্ছে, যার ফলেই এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা সামনে আসছে।
পাল্টা অভিযোগে জটিল পরিস্থিতি
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কর্মী ও নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, এই ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে।
নজর প্রশাসনের দিকে
এখন নজর রয়েছে প্রশাসন ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগের তদন্ত কতদূর এগোয় এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেটাই দেখার।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন