হরমুজে আটকে থাকা জাহাজ ছাড়াতে ট্রাম্পের ‘Project Freedom’! মার্কিন নৌবাহিনীর এসকর্ট পরিকল্পনা ঘিরে জল্পনা
হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন উদ্যোগ ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘Project Freedom’। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনী আটকে থাকা জাহাজগুলোকে এসকর্ট করে প্রণালী থেকে বের করে আনতে পারে।
কেন আটকে আছে জাহাজ?
চলমান মার্কিন অবরোধ এবং ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের কারণে হরমুজ প্রণালীতে একাধিক জাহাজ আটকে রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই জাহাজগুলোর অনেকগুলোরই সংঘাতে জড়িত কোনও পক্ষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই। সেই কারণেই বিষয়টিকে তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।
‘মানবিক পদক্ষেপ’ বলছেন ট্রাম্প
ট্রাম্প এই পরিকল্পনাকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাধারণ পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোকে সংঘাতের জেরে আটকে রাখা উচিত নয়। তাই মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার চিন্তা চলছে।
বাস্তবায়ন কতটা সহজ?
তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখনও বড় প্রশ্ন রয়েছে। কতগুলো জাহাজ আটকে আছে, কোন জাহাজ আগে বের করা হবে, কোন পথে জাহাজগুলোকে নিয়ে যাওয়া হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে জল্পনা
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে “খুব ইতিবাচক আলোচনা” চলছে। তবে এই আলোচনা শুধুই আটকে থাকা জাহাজগুলো ছাড়ানোর বিষয়ে, নাকি আরও বড় কূটনৈতিক ইস্যু নিয়ে—তা এখনও পরিষ্কার নয়।
অবরোধ থেকে সরে আসার পথ?
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ‘Project Freedom’ শুধু জাহাজ ছাড়ানোর পরিকল্পনা নয়, বরং হরমুজ প্রণালীর অবরোধ ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বদলের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। কারণ হরমুজ অবরোধই ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক বার্তা
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে আটকে থাকা জাহাজ, পণ্য পরিবহণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বস্তি আসার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। তবে ইরানের ভূমিকা এবং দুই পক্ষের সমন্বয় ছাড়া এই পরিকল্পনা কার্যকর করা কঠিন হতে পারে।
নজর এখন ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনায়
ট্রাম্পের ‘Project Freedom’ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর থাকবে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা কোন দিকে এগোয় এবং মার্কিন নৌবাহিনী সত্যিই আটকে থাকা জাহাজগুলোকে এসকর্ট করে বের করতে নামে কিনা।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন