লাদাখে ভেঙে পড়ল কপ্টার! অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন ৩ ভারতীয় সেনা কর্তা
নয়াদিল্লি: লাদাখের হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা আর দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকায় ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি 'চিতা' হেলিকপ্টার। তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝখান থেকেই ঘটল অলৌকিক ঘটনা। সাক্ষাৎ মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে অক্ষত অবস্থায় বেঁচে ফিরলেন কপ্টারে থাকা এক জেনারেল-সহ ৩ উচ্চপদস্থ সেনা কর্তা। শনিবার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, গত বুধবার লেহ-লাদাখ থেকে কিছুটা দূরে পাহাড়ি এলাকা ‘টাংস্টে’-তে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেনার তরফে কড়া গোপনীয়তা বজায় রাখার পর, ৩ দিন বাদে আজ এই হাড়হিম করা খবরটি সামনে আনা হয়েছে।
দুর্গম গিরিখাতে অলৌকিক পুনর্জন্ম!
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, এক-ইঞ্জিন বিশিষ্ট ওই চিতা হেলিকপ্টারটির ককপিটে ছিলেন একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং একজন মেজর। আর কপ্টারের পেছনের আসনে সওয়ার ছিলেন ভারতীয় সেনার ‘৩ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন’-এর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (GOC)। যে খাড়া পাহাড়ি এলাকায় কপ্টারটি ভেঙে পড়েছে, সেখান থেকে ৩ জন আধিকারিকেরই জীবিত ফিরে আসা অলৌকিক ছাড়া আর কিছুই নয়। কপ্টারটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও তিন জনেরই প্রাণ বেঁচে গিয়েছে, তবে তাঁদের শরীরে সামান্য চোট লেগেছে। ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই হাই-প্রোফাইল তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবার বিদায় নিচ্ছে ৬০-৭০ দশকের ‘চিতা’ ও ‘চেতক’
লাদাখের এই দুর্ঘটনা ভারতীয় সেনার বিমান বহরের এক বড়সড় খোলনলচে বদলের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করল। সেনা সূত্রে খবর, আর্মি অ্যাভিয়েশন কোরের আধুনিকীকরণ অভিযানের অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী কপ্টারগুলিকে সম্পূর্ণ বিদায় জানানো হবে। তার জায়গায় সেনাবাহিনীতে আনা হবে সম্পূর্ণ নতুন এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘লাইট ইউটিলিটি হেলিকপ্টার’ (LUH)।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ ও ৭০-এর দশক থেকে চেতক এবং চিতা হেলিকপ্টার দুটি যে কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতি বা যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার প্রধান ভরসা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি বদলালেও এদের সেভাবে আধুনিকীকরণ করা সম্ভব হয়নি। এই কারণেই এবার এদের অবসর দিতে চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছিল সেনা। আগামী ৮ থেকে ১০ বছরের এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর প্রায় ২৫০টি নতুন হালকা হেলিকপ্টার প্রয়োজন হবে।
