গরু কোরবানি, রাস্তায় নমাজ নয়! বকরি ইদের আগে ১২ দফা নির্দেশিকা ইসলামিক সেন্টার অফ ইন্ডিয়া-র
নয়াদিল্লি: বকরি ইদ বা ইদ-উদ-জোহা উদযাপনের আগে দেশের মুসলিম সমাজের জন্য একগুচ্ছ কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হলো। অল ইন্ডিয়া মুসলিম ল বোর্ডের সদস্য তথা লখনউয়ের ‘ইসলামিক সেন্টার অফ ইন্ডিয়া’-র চেয়ারম্যান মওলানা খালিদ রশিদ ফিরাঙ্গি মাহালি বকরি ইদ উপলক্ষে একটি ১২ দফা গাইডলাইন বা অ্যাডভাইসরি প্রকাশ করেছেন। সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, উৎসবের আনন্দে মেতে উঠলেও দেশের আইন ও জনশৃঙ্খলাকে কোনোভাবেই বুড়ো আঙুল দেখানো যাবে না।
‘দেশের আইনের পরিপন্থী কাজ নয়, গোরু কোরবানি এড়িয়ে চলুন’
খালিদ রশিদ দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে সাফ বার্তা দিয়েছেন, বকরি ইদে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র সেই সব পশুই কোরবানি দেওয়া যাবে, যেগুলির ওপর দেশের আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বিশেষত গোরু কোরবানি করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। কারণ, তা দেশের আইনের পরিপন্থী।” আইন ভাঙলে যে কড়া পদক্ষেপ হতে পারে, সেই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতও রয়েছে এই নির্দেশিকায়।
রাস্তায় নমাজ নয়, পশুর বর্জ্য ফেলাতেও কড়াকড়ি
আইন রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক পরিচ্ছন্নতা, জনশৃঙ্খলা এবং পরিবেশগত দায়িত্ব পালনের ওপর এই ১২ দফা অ্যাডভাইসরিতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী:
জনবহুল জায়গায় কোরবানি নিষিদ্ধ: কোনো জনবহুল এলাকা, গলির মোড়ে বা রাস্তার ধারে পশুর কোরবানি দেওয়া যাবে না।
রাস্তায় নমাজ বন্ধ: সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সমস্যা তৈরি করে রাস্তা বা কোনো প্রকাশ্য স্থানে ইদের নমাজ পড়া যাবে না। নমাজ পড়তে হবে ইদগাহের ভেতরে অথবা মসজিদের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে।
বর্জ্য অপাসারণে নিয়ম: কোরবানির পর পশুর রক্ত বা বর্জ্য পদার্থ যেখানে-সেখানে খোলা জায়গায় ফেলা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমস্ত বর্জ্য পুরসভা বা পঞ্চায়তের ঠিক করে দেওয়া নির্দিষ্ট জায়গাতেই ফেলতে হবে।
দেশের সমৃদ্ধির জন্য দোয়ার বার্তা
ইসলামিক সেন্টারের চেয়ারম্যান আরও জানান, বকরি ইদের এই পবিত্র দিনটিকে দেশের কল্যাণ ও অগ্রগতির কাজে লাগাতে হবে। উৎসবের দিন যাতে দেশের সমৃদ্ধি ও বর্তমানের সমস্ত সংকট থেকে দেশবাসী মুক্তি পান, তার জন্য বিশেষ দোয়ার প্রার্থনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশিকায়। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মতে, উৎসবের মরসুমে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতেই মুসলিম ল বোর্ডের এই শীর্ষ নেতার এমন কড়া অথচ সময়োপযোগী গাইডলাইন।
