প্রতিশ্রুতি রেখেই বড় চমক! রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীর জন্য (7th Pay Commission) গঠনে সিলমোহর ক্যাবিনেটের

West Bengal 7th Pay Commission 2026 Approved
 

দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং লাগাতার বঞ্চনার অভিযোগের অবশেষে অবসান। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় সপ্তাহের মধ্যেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় চমক দিল নতুন সরকার। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলমোহর দিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা।


সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর পৌরহিত্যে রাজ্য মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পাঁচ জন পূর্ণমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।


মন্ত্রিসভার বৈঠকে কী কী সিদ্ধান্ত হলো? একনজরে:


পে কমিশন গঠনে সবুজ সংকেত: পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এদিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, “রাজ্য সরকারি কর্মী, বোর্ড, নিগম, স্থানীয় সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”


বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য অঙ্ক: ওয়াকিবহাল মহল ও সরকারি কর্মীদের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, নয়া বেতন কমিশন গঠিত হয়ে তা দ্রুত কার্যকর হলে কর্মীদের মূল বেতন বা ‘বেসিক পে’ (Basic Pay) একধাক্কায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে যা কর্মীদের কাছে এক বিশাল স্বস্তির খবর।


অধরা ডিএ জট: সপ্তম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মীদের মধ্যে খুশির হাওয়া বইলেও, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মেটানোর বিষয়ে এদিন মন্ত্রিসভায় কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর।


ইস্তাহারের প্রতিশ্রুতি পূরণে তৎপরতা:

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির তরফ থেকে যে ‘সংকল্পপত্র’ বা নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে সরকারি কর্মীদের মন জয় করতে সপ্তম পে কমিশন গঠনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গোটা ভোটপ্রচার জুড়েই এই বিষয়টিকে অন্যতম হাতিয়ার করেছিল গেরুয়া শিবির। সরকার পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের আশায় দিন গুনছিলেন সরকারি কর্মীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথাতেই মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করিয়ে নতুন সরকার বুঝিয়ে দিল, তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রূপায়ণে বদ্ধপরিকর।


খুব দ্রুত অর্থ দফতরের তরফ থেকে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি (Notification) জারি করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নয়া পে কমিশনের কাঠামোগত বিন্যাস কী হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যের সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।