ডলারের সাপেক্ষে ৯৬.৯৬! রেকর্ড তলানিতে রুপি, আমদানির খরচে নাভিশ্বাস

Indian Rupee hits all time low against US Dollar

মুম্বই:
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির তীব্র অভিঘাত এবার সরাসরি এসে আছড়ে পড়ল ভারতের আর্থিক বাজারে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির তীব্র অস্থিরতায় মার্কিন ডলারের দাপট যত বাড়ছে, ততই রক্তক্ষরণ হচ্ছে ভারতীয় রুপির।

বুধবার বাজার খোলার সাথে সাথেই মার্কিন গ্রিনব্যাকের (ডলার) বিপরীতে সর্বকালীন রেকর্ড তলানিতে গিয়ে ঠেকল ভারতীয় মুদ্রা। এক ধাক্কায় ৩৩ পয়সা পড়ে গিয়ে ডলারের সাপেক্ষে রুপির দাম দাঁড়ায় ৯৬.৮৬ টাকা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পতনের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয় এবং এক সময় ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দর নেমে যায় ৯৬.৯৬-এ, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই এই রক্তক্ষরণ? চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মাত্র এই কয়েক মাসে ভারতীয় রুপির দর প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের দাম চড়া স্তরেই আটকে রয়েছে। ভারত মূলত আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় তেলের এই চড়া দাম দেশের আমদানি খরচ আকাশছোঁয়া করে তুলছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে টাকার মূল্যের ওপর।

একই সঙ্গে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় চড়া রাখবে— এই আশঙ্কায় ডলার ইনডেক্স একলাফে বেড়ে প্রায় ৯৯.৪-এ পৌঁছে গিয়েছে। মার্কিন বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধিতে ভারতের মতো উদীয়মান বাজার থেকে বিদেশি পুঁজি বা ডলার হুহু করে বাইরে চলে যাচ্ছে, যা ব্যালান্স অফ পেমেন্টসের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে।

বাজারের হাল ধরতে আরবিআই-এর ‘মেগা লভ্যাংশ’ তবে এই চরম উদ্বেগের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। সরকারের ঋণ নেওয়ার চাপ কমাতে আরবিআই-এর পক্ষ থেকে কেন্দ্রকে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার রেকর্ড ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিপুল পরিমাণ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাজারে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখতে কিছুটা সাহায্য করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তা সত্ত্বেও বিদেশি লগ্নি যেভাবে দেশ ছাড়ছে এবং রুপি যেভাবে রেকর্ড হারে দুর্বল হচ্ছে, তা আমদানিনির্ভর ভারতীয় অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তার কারণ হয়েই রইল।