৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান জ্বালা গুট্টার
মাতৃত্বের মানবিক নজির গড়লেন জ্বালা গুট্টা
ভারতের প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন তারকা Jwala Gutta এবার কোর্টের বাইরেও এক অনন্য মানবিক কাজের জন্য দেশজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন। জানা গিয়েছে, সন্তান জন্মের পরবর্তী প্রথম বছরে তিনি প্রায় ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করেছেন। এই দুধ হায়দরাবাদ ও চেন্নাইয়ের সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নবজাতকদের কাজে এসেছে বলে জানিয়েছেন জ্বালা।
জ্বালার এই পদক্ষেপ শুধু মানবিক নয়, অসুস্থ ও অকালজাত শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছেন অনেকে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ মাতৃদুগ্ধ দান?
অনেক নবজাতক, বিশেষ করে যারা NICU-তে চিকিৎসাধীন থাকে, নানা কারণে জন্মের পরপরই মায়ের দুধ পায় না। অকাল প্রসব, মায়ের অসুস্থতা, অপুষ্টি বা শারীরিক জটিলতার কারণে অনেক সময় মায়ের দুধ আসতে দেরি হয়।
এই অবস্থায় পরীক্ষিত ও নিরাপদভাবে সংরক্ষিত দাতা-মাতৃদুগ্ধ নবজাতকদের জন্য বড় সহায়তা হতে পারে। মায়ের দুধে থাকা প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শিশুর প্রাথমিক দিনগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
I donated around 60 litres of breast milk to the government hospital in Hyderabad and Chennai during my first year of post partum!!
— Gutta Jwala 💙 (@Guttajwala) May 14, 2026
Why does it matter? Just 100ml of donor milk can feed a tiny 1kg baby for several days. This donation could potentially support dozens of infants… pic.twitter.com/JzEXQZDrXa
৬০ লিটার দান, সাহায্য বহু শিশুকে
জ্বালা গুট্টা জানিয়েছেন, মাত্র ১০০ মিলিলিটার দান করা মাতৃদুগ্ধও খুব কম ওজনের শিশুর জন্য কয়েক দিনের পুষ্টির সহায়তা হতে পারে। সেই জায়গায় ৬০ লিটার দান বহু নবজাতকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।
তাঁর এই উদ্যোগ সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, জ্বালা শুধু নিজের সন্তানের মা নন, তাঁর এই উদ্যোগে তিনি বহু শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
কোর্টের বাইরেও চ্যাম্পিয়ন
জ্বালা গুট্টা ভারতের অন্যতম সফল ব্যাডমিন্টন ডাবলস খেলোয়াড়। মহিলা ও মিক্সড ডাবলসে আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন তিনি। ১৪ বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন জ্বালা তাঁর স্পষ্টভাষী মনোভাবের জন্যও পরিচিত।
এবার মাতৃদুগ্ধ দানের মতো সংবেদনশীল ও জরুরি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করে তিনি নতুন করে মানুষের হৃদয় জয় করলেন।
অন্য মায়েদের কাছেও আবেদন
জ্বালা জানিয়েছেন, মাতৃদুগ্ধ দান সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পরীক্ষিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
তাঁর এই বার্তা অনেক মাকে দুধ দানের বিষয়ে সচেতন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে সংগৃহীত দাতা-মাতৃদুগ্ধ অনেক নবজাতকের জীবনরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, জ্বালা গুট্টার এই উদ্যোগ প্রমাণ করল— মানবিকতা থাকলে একজন মা নিজের সন্তান ছাড়াও অসংখ্য শিশুর জীবনে আলো হয়ে উঠতে পারেন।