সবংয়ে হারের পর জনসমক্ষে নেই মানস ভূঁইয়া, ভিকনীনিশ্চিন্তপুরের বাড়ি ঘিরে জল্পনা
সবং: চব্বিশের লোকসভা ভোটের পর ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন— মেদিনীপুরের লালমাটির রাজনৈতিক সমীকরণ যে রাতারাতি বদলে গিয়েছে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ এখন সবংয়ের ভিকনীনিশ্চিন্তপুর। বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় আর সেভাবে দেখা মিলছে না সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী মানস ভূঁইয়ার। বিজেপি প্রার্থী অমল কুমার পণ্ডার কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে কার্যত নিজেকে শতহস্ত দূরে সরিয়ে নিয়েছেন এই বর্ষীয়ান চাণক্য। আর মেদিনীপুরের এই দাপুটে নেতার এমন আকস্মিক 'অন্তর্ধান' ঘিরেই এখন চর্চা তুঙ্গে সবংয়ের রাজনৈতিক মহলে।
জনঅরণ্য থেকে সুনসান নীরবতা, চেনা ছবির ভোলবদল:
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সবংয়ের ভিকনীনিশ্চিন্তপুরে অবস্থিত মানস ভূঁইয়ার বাড়িটি এক সময় ছিল গোটা মহকুমার রাজনীতির প্রধান ভরকেন্দ্র। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী, অনুগামী এবং নিজেদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ নিয়ে আসা সাধারণ মানুষের ভিড়ে গমগম করত চারপাশ। হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক আলোচনা, দলীয় রুদ্ধদ্বার বৈঠক কিংবা ক্ষোভ প্রশমন— সব কিছুরই আঁতুড়ঘর ছিল এই বাড়ি। কিন্তু নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর সেই চেনা রাজকীয় ছবিতে রাতারাতি বড় পরিবর্তন এসেছে।
বর্তমানে বাড়ির চারপাশে নেমে এসেছে এক নিশ্ছিদ্র নীরবতা। নেই আগের মতো কোলাহল বা রাজনৈতিক কর্মব্যস্ততা। স্থানীয় সূত্রের খবর, অতিকায় এই প্রাসাদে বর্তমানে মাত্র দুজন কর্মী রয়েছেন। তাঁরাই মূলত রান্নাবান্না এবং ফাঁকা বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
হতাশা নাকি কৌশলগত দূরত্ব? তুঙ্গে জল্পনা:
নির্বাচনে হারের পর প্রাক্তন মন্ত্রী ঠিক কী কারণে এবং কোথায় চলে গিয়েছেন, তা নিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল বা দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও উত্তর মেলেনি। তবে বিষয়টি ঘিরে সবংয়ের চায়ের দোকানে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। একাংশের মতে, নিজের গড় হাতছাড়া হওয়ায় তীব্র রাজনৈতিক হতাশা থেকেই তিনি আপাতত জনসমক্ষ থেকে দূরে রয়েছেন। অন্য অংশের দাবি, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই এই কৌশলগত অজ্ঞাতবাস।
উত্তেজনা উধাও, শান্ত সবংয়ের মাটি:
একদা দাপুটে নেতার দেখা না মিললেও, পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর একটা বড় অংশ কিন্তু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। তাঁদের দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর এবং মানস ভূঁইয়া আড়ালে চলে যাওয়ার পর থেকে এলাকায় আগের মতো কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা আতঙ্কের পরিবেশ নেই। একদা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সবংয়ের মাটি এখন অনেকটাই শান্ত। সব মিলিয়ে, এক সময়ের মেদিনীপুরের রাজনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তির এই রহস্যময় নিস্তব্ধতা এখন জেলার রাজনীতির সবচেয়ে বড় আলোচনা।