ময়নাগুড়িতে পুর-পরিষেবা লাটে, আবর্জনা সংগ্রহ ও নিকাশি বন্ধের অভিযোগে বিক্ষোভ শহরবাসীর
ময়নাগুড়ি: ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই ময়নাগুড়ি পুরসভার পরিষেবা কার্যত থমকে রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার পুরসভা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবর্জনা সংগ্রহ বন্ধ, নিকাশি নালা সংস্কারের কাজ থমকে থাকা এবং পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শহরবাসী।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই পুর পরিষেবা তলানিতে পৌঁছেছে। বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ বন্ধ থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় নোংরা জমছে। পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল থাকায় জল জমা ও মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বৃহস্পতিবার পুরসভার সামনে জমায়েত হয়ে চেয়ারম্যান মনোজ রায়ের পদত্যাগের দাবিও তোলেন বিক্ষোভকারীরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই বিক্ষোভ চলে। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভা গঠনের কয়েক বছর পরেও বহু বাড়িতে এখনও পানীয় জল পৌঁছয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মমতা বসু ও সোমা বর্ধনের অভিযোগ, শহরের মানুষ ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা পাচ্ছেন না। নিকাশি ব্যবস্থার অবস্থা খারাপ, আবর্জনা সংগ্রহ বন্ধ এবং পানীয় জলের সমস্যার সমাধান হয়নি। সেই কারণেই তাঁরা বাধ্য হয়ে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।
এ বিষয়ে ময়নাগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান মনোজ রায় জানান, বাসিন্দারা কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে এসেছিলেন। তবে আগাম কোনও सूचना তাঁরা দেননি। তাঁর দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে ময়নাগুড়ির সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প তালাবন্ধ করে রেখেছেন কিছু মানুষ। ব্লক প্রশাসনের তরফে সেটি চালু করতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, নির্বাচনী বিধিনিষেধের কারণে অনেক প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল। তবে দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। পদত্যাগের দাবি নিয়ে মনোজ রায় বলেন, শহরের ভাবমূর্তি তাঁর জন্য নষ্ট হোক, তা তিনি চান না। পদত্যাগের বিষয়টি নিয়েও তিনি চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, ময়নাগুড়ি বিজেপির যুব মোর্চার টাউন মণ্ডল সভাপতি সুজন মিত্র বলেন, শহরবাসীর মধ্যে পুর পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। তাঁর দাবি, বিজেপি জোর করে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি করে না। পুরসভা নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবেন, সেটাই চূড়ান্ত হবে।
পুর পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে সাধারণ মানুষের এই বিক্ষোভে ময়নাগুড়ির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক করতে পুরসভা কী পদক্ষেপ করে।