একজনের জন্য সবাই যাবে কেন?” মুকুল-শুভেন্দুর দলবদল টেনে মমতার ‘অন্ধ স্নেহ’ নিয়ে সোচ্চার পার্থ
কলকাতা: বিধানসভা ভোটে দলের রক্তক্ষরণ নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই বিস্ফোরক ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কারাবন্দি দশা থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নীতি এবং খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। পার্থর স্পষ্ট দাবি, এই বিপর্যয়ের পেছনে দলনেত্রীর নিজস্ব কিছু দুর্বলতা বড় ভূমিকা নিয়েছে এবং তা এখনও অব্যাহত।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শীর্ষ মহলের অতি-উৎসাহকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “৪১ শতাংশ ভোট পাওয়ার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই, বরং দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন স্পষ্ট হয়েছে। নেত্রী সবাইকে খাটুনির সার্টিফিকেট দিচ্ছেন, কিন্তু আত্মতুষ্টির এই গান গাওয়ার সময় এখন নয়।” দক্ষিণী রাজনীতির ধাঁচে হুডখোলা গাড়িতে চড়ে হাত নাড়ানোর স্টাইলকে নাম না করে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “ভাষার ব্যবহার বা ওই ধরন দিদিকে মানালেও অন্য কারও ক্ষেত্রে তা দৃষ্টিকটু।” একই সঙ্গে মুকুল রায় বা শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েটদের দলত্যাগের পেছনে নেতৃত্বের ‘অন্ধ স্নেহ’ ও একজনের একাধিপত্যের জেদ কাজ করেছে বলে তাঁর মত।
দলের প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতাদের গুরুত্বহীন করার কৌশল নিয়েও সরব হন তিনি। আরাবুল খান বা শওকত মোল্লাদের কোণঠাসা করার সমালোচনা করে পার্থ বলেন, “আমাকে জেলে পাঠিয়ে ভাবা হলো দায় এড়ানো গেল। অথচ আমি যে জেলাগুলোর দায়িত্ব সামলাতাম, আজ সেখানে দলের সংগঠন ভেঙে পড়েছে। ঝাড়গ্রাম, কোচবিহার কিংবা নদিয়া— সর্বত্রই ভরাডুবি।” তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর শেষ বার্তা, এবার অবিলম্বে যোগ্য উত্তরাধিকারী বেছে নেওয়া দরকার, যা অন্য আঞ্চলিক দলগুলি অনেক আগেই করে দেখিয়েছে।