কলকাতা: দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে ঘিরে ফের সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। নিয়োগ দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেন তদন্তে এবার নতুন করে উঠে এল প্রায় ৯০ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক ট্রানজ্যাকশনের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইডির এই নতুন পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গোপাল চন্দ্র যোগ ও ইডির স্ক্যানারে লেনদেন: তদন্তকারী সূত্রের দাবি, গোপাল চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন এখন ইডির কড়া নজরে। একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন এবং কয়েকটি সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নথি খুঁটিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইডির প্রাথমিক সন্দেহ, নগদ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে কালো টাকা ঘোরানো হয়ে থাকতে পারে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের আড়ালে সেই অর্থ লুকোনোর চেষ্টা হয়েছিল কি না, এবং ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টে তা ট্রান্সফার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নজরে পুর নিয়োগ দুর্নীতি ও বেনামি সম্পত্তি: ইতিমধ্যেই তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নজরে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে পুর নিয়োগ দুর্নীতির সম্ভাব্য যোগ, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগের উৎস এবং সম্পত্তি কেনাবেচার আর্থিক হিসাব। এর আগেও সুজিত বসুর অফিস, বাড়ি ও ঘনিষ্ঠদের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে। এবার সেই সূত্র ধরেই কি এই ৯০ লক্ষ টাকার হদিস মিলল, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে। বিজেপির অভিযোগ, দুর্নীতির টাকার বড় চক্র সামনে আসছে এবং তদন্তে আরও বিস্ফোরক তথ্য মিলতে পারে। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূলের পাল্টা দাবি, "কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হচ্ছে।" আপাতত ব্যাঙ্ক ট্রেল ও ডিজিটাল ডেটা বিশ্লেষণের উপরই জোর দিচ্ছে ইডি। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।