‘জাহাঙ্গীরকে গাছে তুলেছিল ভাইপো, এখন ফলতাতেই দেখা নেই!’ মেগা রোড শো থেকে অভিষেককে নজিরবিহীন আক্রমণ শুভেন্দুর।

CM Suvendu Adhikari slams Abhishek Banerjee and Jahangir Khan in Falta
 
ডায়মন্ড হারবার: দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হাই-ভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ এখন তুঙ্গে। আগামী ২১ মে ফলতায় হতে চলেছে এই ভাগ্য নির্ধারণকারী ভোটযুদ্ধ। আর তার ঠিক আগের মুহূর্তে মঙ্গলবার শেষ লগ্নের প্রচারে এসে ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে ফলতায় একটি মেগা রোড শো করেন তিনি। সেখান থেকেই নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোট ময়দান থেকে নাটকীয়ভাবে সরে দাঁড়ানো তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

গাছে তুলে মই কেড়েছেন ভাইপো! কদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের কড়া আইপিএস অফিসারকে সামনে দেখে বুক চিতিয়ে হুঙ্কার দিয়ে জাহাঙ্গীর খান বলেছিলেন— ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি!’ কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়ি এবং পুনর্নির্বাচন ঘোষণা হতেই ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস ও ভোট ময়দান ছাড়ার ঘোষণা করেছেন জাহাঙ্গীর। এই প্রসঙ্গ টেনেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে বলেন,

"পুষ্পা বলেছিলেন ঝুঁকেগা নেহি। ভাইপোর ভরসায় লড়েছিলেন। মাননীয় ভাইপোই ওনাকে গাছে তুলেছিলেন। আর এখন সংকটের মুখে সেই ভাইপোবাবুর ফলতাতেই আর দেখা নেই! পুষ্পা আজ বলছে 'আমি পগারপার'। নির্বাচনে লড়ছেই না।"

নিশ্চিত পরাজয় বুঝেই আত্মসমর্পণ! মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ফলতার বুথগুলোতে এবার আর রিগিং বা দাদাগিরি করার কোনও সুযোগ নেই। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় ভোট হবে। তাই নিশ্চিত পরাজয় এবং গণরোষের ভয় আঁচ করতে পেরেই তৃণমূলের এই দাপুটে 'ভোট ম্যানেজার' পিছু হটেছেন। শুভেন্দুর কথায়, "সরিয়ে তো আপনাকে মানুষ ২১ তারিখেই দিত। আপনি তো পোলিং এজেন্টই খুঁজে পেতেন না। তাই এখন সোনার ফলতা গড়ার এবং শান্তির দোহাই দিয়ে ময়দান ছেড়ে পালাচ্ছেন।"

তৃণমূলের ‘গোপন চাল’ নিয়ে ভোটারদের হুঁশিয়ারি জাহাঙ্গীর খান লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেও ফলতার সাধারণ ভোটারদের এক মুহূর্তের জন্যও হালকা না হওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন,

"আপনাদের বলব, এটা তৃণমূলের একটা গোপন চাল ও কৌশল। ওরা চাইছে আপনারা ভাবুন যে আমরা তো জিতেই গেছি, তাই ভোট না দিলেও চলবে। এই ফাঁদে পা দেবেন না। ১০ বছর পর ফলতার মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার সুযোগ ও স্বাদ পেয়েছেন। তাই ১০০ শতাংশ বুথে গিয়ে ৩ নম্বর বোতাম চিপে পদ্মফুলে ভোট চাই।"

শুভেন্দু অধিকারী আরও আশ্বাস দেন, ২৪ মের পর ফলতার সার্বিক উন্নয়ন এবং বন্ধ হয়ে থাকা সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির পুনরুজ্জীবনে বিশেষ জোর দেবে রাজ্য সরকার। এলাকার চা বলয় ও সাধারণ মানুষের পেটে ভাত, মাথায় ছাদ এবং হাতে কাজ সুনিশ্চিত করতে নতুন সরকার বদ্ধপরিকর। ভোটের মুখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক ভাষণ এবং ফলতার মাঠ থেকে 'পুষ্পা' জাহাঙ্গীরের নাটকীয় অন্তর্ধান— দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।