এমেরির জাদুতে রূপকথা! ৩০ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়ে ইউরোপা লিগ চ্যাম্পিয়ন অ্যাস্টন ভিলা।

 

Aston Villa players celebrating Europa League 2026 trophy win
ছবি: X

স্পোর্টস ডেস্ক: ৪৪ বছর পর আবার ইউরোপের মঞ্চে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন হলো অ্যাস্টন ভিলার। ইউরোপা লিগের (Europa League) ফাইনালে মহাকাব্যিক জয় পেয়ে ৩০ বছরের ট্রফি না জেতার দীর্ঘ হতাশা ও খরা কাটল উনাই এমেরির দলের। বুধবার রাতে ইস্তানবুলের মাঠে ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ট্রফি নিজেদের নামে করল ভিলা। ইউরি তিলেমান্স, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া এবং মর্গ্যান রজার্সের পা থেকে আসা তিন গোলেই লেখা হলো এই নতুন ইতিহাস। ১৯৯৬ সালের লিগ কাপের পর এটাই ভিলার প্রথম বড় কোনো ট্রফি।

৪৪ বছরের অপেক্ষার পর নতুন ইতিহাস: ১৯৮২ সালে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল অ্যাস্টন ভিলা। পিটার উইথের করা সেই ঐতিহাসিক গোল আজও ক্লাবের রূপকথা। এত বছর পর ঠিক সেই সাফল্যের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল বর্তমান দল। কাকতালীয়ভাবে, ১৯৮২ সালের ফাইনালের মতো এ বারও নিজেদের চেনা ক্ল্যারেট-নীল জার্সির বদলে সাদা জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল ভিলা। আর গ্যালারিতে বসে সেই ম্যাজিক চাক্ষুষ করছিলেন ক্লাবের দুই প্রাক্তন কিংবদন্তি পিটার উইথ ও ডেনিস মর্টিমার। তাঁদের সামনেই ফ্রাইবুর্গকে পুরো ম্যাচে দাঁড়াতে দেয়নি এমেরির ছেলেরা।

এমেরির জাদুতে দুর্দান্ত জয়: ইউরোপা লিগে উনাই এমেরির সাফল্য নতুন কিছু নয়, এই টুর্নামেন্ট যেন তাঁর ঘরের মাঠ। এর আগে সেভিয়ার হয়ে ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে হ্যাটট্রিক ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। পরে ২০২১ সালে ভিয়ারিয়ালকে চ্যাম্পিয়ন করেন। এ বার অ্যাস্টন ভিলাকে ট্রফি জিতিয়ে ম্যানেজার হিসেবে পঞ্চম বার এই প্রতিযোগিতার শিরোপা তুললেন 'ইউরোপা কিং' এমেরি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভিলা। প্রথম দিকে মর্গ্যান রজার্সের শট ফ্রাইবুর্গ গোলকিপার নোয়া আতুবোলু আটকে দিলেও ৪১ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। কর্নার থেকে আসা বল বাতাসে ভাসতেই দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইউরি তিলেমান্স। এর ঠিক কিছু পরেই ব্যবধান ২-০ করেন এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। ফ্রাইবুর্গের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

অবনমনের লড়াই থেকে স্বপ্নের মতো শেষ: দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে বুয়েন্দিয়ার পাস থেকে ম্যাচের শেষ গোলটি করে ভিলার জয় নিশ্চিত করেন মর্গ্যান রজার্স। তারপর থেকেই গ্যালারিতে শুরু হয় ভিলা সমর্থকদের বাঁধভাঙা উৎসব। অথচ এই মরশুমের শুরুটা কিন্তু একেবারেই ভালো ছিল না ভিলার। প্রথম ছয় ম্যাচে একটাও জয় পায়নি তারা, গোল এসেছিল মাত্র দুটি। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইউরোপা লিগে ১৫ ম্যাচের মধ্যে ১৩টি জিতে ফাইনালে পৌঁছায় এবং চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

গত সপ্তাহেই লিভারপুলকে হারিয়ে আগামী মরশুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা পাকা করেছিল ভিলা। আর তার কয়েক দিনের মধ্যেই চলে এলো ইউরোপা লিগের ট্রফি। ২০২২ সালের অক্টোবরে দল যখন অবনমনের (Relegation) ভয়ে কাঁপছিল, তখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন উনাই এমেরি। তাঁর জাদুকরী হাতের ছোঁয়াতেই এখন আবার ইউরোপের সেরা দলগুলির কুলীন সারিতে নিজের জায়গা ফিরে পেল অ্যাস্টন ভিলা।