নিজস্ব প্রতিনিধি, কামারহাটি:
রাজ্যজুড়ে চলা তীব্র দাবদাহের মাঝেই উত্তর শহরতলির বাসিন্দাদের জন্য বড় ধাক্কা। কামারহাটি ও বরাহনগর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে (ফেজ ওয়ান) জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের কাজ চলায় বন্ধ থাকতে চলেছে পানীয় জল সরবরাহ। আজ, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আগামীকাল, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উত্তর শহরতলির ৪টি বড় পুরসভা এলাকায় এক ফোঁটাও জল মিলবে না।
কেএমডিএ (KMDA) সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে থেকে শুক্রবার সকাল ৭টা পর্যন্ত এই জল বন্ধ থাকবে। এর ফলে বরাহনগর, কামারহাটি, পানিহাটি এবং উত্তর দমদম পুরসভা এলাকার লাখ লাখ মানুষকে চরম সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
কেন এই জরুরি সংস্কারের সিদ্ধান্ত?
কেএমডিএ-র আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তীব্র গরমের কারণে একদিকে যেমন গঙ্গায় জলের স্তর নিচে নেমে গিয়েছে, অন্যদিকে এই প্রকল্পের অন্তর্গত ‘মল্লিকবাড়ি ইনটেক পয়েন্ট’-এর পাইপলাইনে প্রচুর পলি জমে গিয়েছে। ফলে গঙ্গা থেকে জল তুলতে ও তা সরবরাহ করতে সমস্যা হচ্ছিল। জল সরবরাহ স্বাভাবিক ও বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই এই পাইপলাইন মেরামতের জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ৪টি পুরসভাকে ইতিমধ্যেই কেএমডিএ-র তরফে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
কোন কোন এলাকায় জল বন্ধ থাকবে?
বরাহনগর পুরসভা (Baranagar Municipality)
কামারহাটি পুরসভা (Kamarhati Municipality)
পানিহাটি পুরসভা (Panihati Municipality)
উত্তর দমদম পুরসভা (North Dum Dum Municipality)
পরিস্থিতি সামাল দিতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুরসভা?
টানা ১৬ ঘণ্টা জল সরবরাহ বন্ধ থাকার জেরে সাধারণ মানুষের যাতে রান্নাবান্না ও অন্যান্য জরুরি কাজে অসুবিধা না হয়, তার জন্য পুরসভাগুলির তরফে মাইকিং করে প্রচার চালানো হচ্ছে। বাসিন্দাদের আগেভাগেই জল মজুত করে রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে:
প্রতিটি পুরসভার নিজস্ব ভূগর্ভস্থ পাম্পগুলি (Underground Pumps) টানা চালু রাখা হবে।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ও এলাকায় পানীয় জলের ট্যাঙ্ক (Water Tankers) মোতায়েন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বরাহনগর পুরসভার চেয়ারম্যান পরিষদ সদস্য (জল) অমর পাল জানান, "সমস্যা তো হবেই, তবে আমরা সবদিক থেকে প্রস্তুতি রাখছি। বরাহনগর পুরসভা অন্যান্য জল প্রকল্প থেকেও কিছুটা জল সরবরাহ করার চেষ্টা করবে।"
অন্যতিকে, কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, "আমাদের এখানে চার বেলা জল দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সমস্যা হবে ঠিকই, তবে আমরা জলের ট্যাঙ্ক ও ভূগর্ভস্থ পাম্প প্রস্তুত রাখছি।"
তীব্র গরমে এমনিতেই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। তার ওপর এই ‘নির্জলা’ পরিস্থিতি উত্তর শহরতলির বাসিন্দাদের চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিল। তবে প্রশাসনের আশ্বাস, এই সাময়িক কষ্টের পর পাইপলাইন পরিষ্কার হলে জল সরবরাহের গতি ও পরিমাণ অনেকটাই বাড়বে।
