ভারতের নাগরিকত্ব পেতে নতুন নিয়ম, তিন দেশের শরণার্থীদের বড় ঝটকা

 

CAA New Rules 2026 India Passport Details Mandatory

নয়াদিল্লি: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বাস্তবায়নের মাঝেই এবার বড়সড় আইনি মোড়ক নিয়ে এল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বাংলাদেশ, পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান থেকে ভারতে এসে যাঁরা এ দেশের স্থায়ী নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন, তাঁদের জন্য নিয়ম এবার একধাক্কায় অনেকটাই কঠোর করা হলো। এখন থেকে আবেদনকারীদের নিজেদের দেশের পাসপোর্টের বর্তমান পরিস্থিতি বা 'স্ট্যাটাস' স্পষ্ট করা বাধ্যতামূলক। এই মর্মে ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধি সংশোধন করে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।


লুকানো যাবে না মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টও, কড়া নির্দেশ কেন্দ্রের:

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পেতে চাওয়া কোনও ব্যক্তির কাছে তাঁর নিজের দেশের কোনও বৈধ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) পাসপোর্ট থাকলে, তা কোনোভাবেই সরকারের কাছে গোপন করা চলবে না।


দিতে হবে পাসপোর্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ান: আবেদনকারীর কাছে বৈধ পাসপোর্ট থাকলে, তার নম্বর, পাসপোর্টটি ইস্যু করার সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং তার মেয়াদের সময়সীমা— সবটাই লিখিত ‘ডিক্লারেশন’ বা ঘোষণাপত্র আকারে জানাতে হবে।


রীতিমতো মুচলেকা দিতে হবে আবেদনকারীকে: এই ঘোষণাপত্রে আবেদনকারীকে লিখিত আকারে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। সেখানে জানাতে হবে যে, ভারতের নাগরিকত্ব মেলার ঠিক ১৫ দিনের মধ্যে নিজের কাছে থাকা প্রতিবেশী দেশের পাসপোর্টটি (তা বৈধ হোক বা মেয়াদোত্তীর্ণ) ভারতীয় ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সুপারের দফতরে গিয়ে জমা দিয়ে আসতে হবে।


১সি তফসিলে জুড়ল নতুন অনুচ্ছেদ:

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধিমালার ‘১সি তফসিল’-এর পরেই এই নতুন অনুচ্ছেদটি যুক্ত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই নির্দিষ্ট তফসিলটি আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত বা নিপীড়িত হয়ে ভারতে চলে আসা অমুসলিম— অর্থাৎ হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।


২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী এই তিন দেশ থেকে নথিপত্রহীনভাবে ভারতে চলে আসা অমুসলিম refugees বা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ মসৃণ করেছিল ২০১৯ সালের সিএএ আইন। এবার সেই গোটা প্রক্রিয়াকে আরও নিশ্ছিদ্র, আইনি এবং স্বচ্ছ করতে ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধি সংশোধন করে পাসপোর্টের এই কড়া শর্ত চাপাল ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।