আরজি কর কাণ্ডে এবার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া পদক্ষেপ নিল বর্তমান রাজ্য সরকার। আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন সুপার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিল নবান্ন। সোমবার বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে খোদ নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর কোনো অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। অবশেষে সেই আইনি জট কাটিয়ে ইডি (ED)-কে বিচার শুরুর ছাড়পত্র দিল বর্তমান সরকার।
কেন আটকে ছিল বিচারপ্রক্রিয়া? আরজি করে চিকিৎসক পড়ুয়া খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই তৎকালীন সুপার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে সেই দুর্নীতির তদন্ত ঠিক মতো এগোতে দেওয়া হয়নি। এমনকী, আর্থিক দুর্নীতির তদন্তের জন্য এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-কেও অনুমতি দেয়নি তৎকালীন সরকার।
এখানে উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিচার ভবনে আরজি কর হাসপাতালের দুর্নীতি মামলার শুনানিতে চার্জশিট পেশ করে ইডি জানিয়েছিল, শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের অনুমোদন না মেলার কারণেই পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য দফতর সেই ছাড়পত্র আটকে রেখেছিল। সূত্রের খবর, ইডির ওই চার্জশিটে নাম ছিল সন্দীপ ঘোষ-সহ আরও একাধিক রাঘববোয়ালের।
দুর্নীতির জাল ঠিক কতটা বিস্তৃত? আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে মর্মান্তিক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নেমেই পরতে পরতে আর্থিক দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয়। এই জোড়া মামলার সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছিল সিবিআই (CBI)। এরপর ইডি ময়দানে নেমে জানতে পারে, সন্দীপ ঘোষের কার্যকালে হাসপাতালে বিভিন্ন টেন্ডার দুর্নীতি চরম আকার নিয়েছিল।
পাশাপাশি হাসপাতালের ভিতরে বেআইনি পার্কিং, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন দামি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। সেই তদন্তেই নাম উঠে আসে বিপ্লব সিং ও সুমন হাজরার। অভিযোগ, সমস্ত নিয়ম ও সরকারি প্রোটোকল ভেঙে এই দুজনকেই টেন্ডার পাইয়ে দিতেন সন্দীপ ঘোষ।
অবশেষে নতুন সরকারের তরফ থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে সেই তদন্ত করার আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র দেওয়ায়, এবার আর সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে ইডির সামনে কোনো বাধা থাকল না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
.png)