মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ ঘনাচ্ছে মহাযুদ্ধের মেঘ। একদিকে লেবাননে তথাকথিত 'যুদ্ধবিরতি'-র মেয়াদ বৃদ্ধি সত্ত্বেও ইজরায়েলি হামলা অব্যাহত, আর অন্যদিকে ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)।
ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে লিখেছেন,
"ইরানের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা না হলে তাদের আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না! সময় অত্যন্ত মূল্যবান!"
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ওয়াশিংটন এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের শক্তি বা এনার্জি পরিকাঠামোর ওপর ভয়াবহ বিমান হামলার ছক কষছে বলেই এই হুঁশিয়ারি।
পালটা তোপ ইরানের আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই চরম হুমকির পালটা জবাব দিয়েছে তেহরানও। রবিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের সামরিক বাহিনী যেকোনো নতুন আগ্রাসন মোকাবিলা করতে "সম্পূর্ণ প্রস্তুত"।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন হামলা ও চরম উত্তেজনা ইরান-মার্কিন যুদ্ধের ৮০ তম দিনে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে।
পরমাণু কেন্দ্রে হামলা: রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) বারাকাহ পরমাণু কেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলা হয়। আমিরশাহীর মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ড্রোনটি পরমাণু কেন্দ্রের বাইরের পেরিমিটারে একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আঘাত করে। তবে সৌভাগ্যের বিষয়, তেজস্ক্রিয়তার কোনো বিপদ ঘটেনি এবং প্লান্টটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে।
সৌদি আরবের পদক্ষেপ: সোমবার সৌদি আরব জানিয়েছে যে, তারা ইরাকের আকাশপথ ব্যবহার করে আসা ৩টি ড্রোন মাঝপথেই ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেছে রিয়াধ।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের প্রস্তুতি রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পকে সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের শক্তি কেন্দ্রগুলোতে যেন হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, ইজরায়েলের 'চ্যানেল ১৩'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জার্মানির ঘাঁটি থেকে প্রচুর পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন কার্গো বিমান ইতিমধ্যেই তেল আভিভে অবতরণ করেছে। ইজরায়েলি সেনাও ইরানের ওপর নতুন করে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্ব বাজারে তেলের দামে আগুন আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায় সোমবার বিশ্ববাজারে ফের অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের (Brent crude) দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১১ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে, যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অশান্ত পরিস্থিতি আগামী দিনে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নেয় কি না, এখন সেদিকেই উদ্বেগের সঙ্গে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।