‘আমি ফেঁসে গেছি, তুই অন্তত ফাঁসিস না!’ মৃত্যুর আগে বান্ধবীকে শেষ মেসেজ তিশা শর্মার, ভোপালে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার তরুণীর দেহ।

 
বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই স্বপ্নের মতো জীবনটা পরিণত হলো নরকে। ভোপালের শ্বশুরবাড়িতে নয়ডার বাসিন্দা তথা প্রাক্তন 'মিস পুণে' তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যু ঘিরে এখন দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় নিজের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় দু'মাসের অন্তঃসত্ত্বা তিশার ঝুলন্ত দেহ। মৃত্যুর আগে মা এবং বান্ধবীকে পাঠানো তাঁর শেষ কয়েকটি মেসেজ এখন তদন্তের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

কী লেখা ছিল বান্ধবীর মেসেজে? ইতোমধ্যেই তিশার মৃত্যুর আগে করা একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সামনে এসেছে। সেখানে তিশা নিজের বান্ধবী মীনাক্ষীকে মেসেজ করে লেখেন,

'আমি ফেঁসে গেছি ভাই। তুই অন্তত ফাঁসিস না। এখন বেশি কথা বলতে পারব না। সময় হলে নিজেই ফোন করব।'

উদ্বিগ্ন হয়ে এর উত্তরে মীনাক্ষী লেখেন, 'আমার তোর জন্য চিন্তা হচ্ছে টুকটুক। আমি তোকে খুব ভালোবাসি, তোর পাশেই আছি।' কিন্তু তিশার সেই ফোন আর কখনোই আসেনি। এর ঠিক পরদিনই শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ।

মায়ের কাছে শেষ আর্তনাদ: 'আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে' শুধু বান্ধবী নয়, মৃত্যুর কিছুদিন আগে নিজের মাকেও মেসেজ করে শ্বশুরবাড়ির ভয়াবহ অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়সী এই তরুণী। তিশা মাকে জানান,

'আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে মা। এরা আমাকে কাঁদতেও দেবে না, হাসার কোনো কারণও দেবে না। আমি খুব খারাপভাবে ফেঁসে গেছি। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও মা!' পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর ঠিক মিনিট পনেরো আগেও মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। কিন্তু স্বামী ঘরে ঢুকতেই তিশা আচমকা ফোন কেটে দেন। এর ঠিক পরেই তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন আসে যে তিশা আর বেঁচে নেই!

পরিবারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তিশার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর ওপর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও তাঁর শরীরে মারধরের বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পরিবার। শুধু তাই নয়, ঘটনার রাতে তিশাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হয়েছিল বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।

ইতিমধ্যেই পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাক্তন এক বিউটি পেজেন্ট বিজয়িনীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।