কলকাতা স্পোর্টস নিউজ: তিলোত্তমার বুকে লিওনেল মেসির পা রাখা নিয়ে যে নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি ঘটেছিল, তা নিয়ে এবার আইনি লড়াইয়ে নামলেন ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত (Shatadru Dutta)। রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas), জুঁই বিশ্বাস এবং রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে এবার থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, শতদ্রুর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— আগামী দিনে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করতে চলেছেন তিনি।
২২,৫০০ টিকিট ব্ল্যাকের বিস্ফোরক অভিযোগ!
এফআইআর দায়ের করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শতদ্রু দত্ত একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি:
তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জোর করে ২২,৫০০টি টিকিট নিয়ে ব্ল্যাক করেছিলেন।
জোর করে একাধিক প্রভাবশালীর মাঠে ঢোকার অনুমতিপত্র বা অ্যাক্সেস কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
জুঁই বিশ্বাসের মাঠে ঢোকার কোনো বৈধ কার্ডই ছিল না, তাও তিনি মাঠে ঢুকে ছবি তোলেন।
শতদ্রু দত্ত সাফ জানিয়েছেন, "অরূপ ও জুঁইয়ের সঙ্গে আরও অনেকেই জোর করে মাঠে ঢুকেছিলেন। তাঁদের সবাইকে সিসিটিভি দেখে শনাক্ত করা হচ্ছে। সবার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।"
(এখানে শতদ্রু দত্ত বা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের একটি ছবি দিন এবং Alt Text-এ লিখুন: Shatadru Dutta FIR Aroop Biswas)
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত ১৩ই ডিসেম্বর?
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পা রেখেছিলেন ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসি (Lionel Messi), লুইস সুয়ারেজ এবং রড্রিগো দি’পল। কিন্তু যুবভারতীর ৬০ হাজার দর্শকের স্বপ্ন নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
অভিযোগ ওঠে, মেসি মাঠে প্রবেশ করা মাত্রই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর অনুগামীরা প্রিয় ফুটবলারকে কার্যত ‘ছেঁকে’ ধরেন। শতদ্রু দত্তের দাবি, দর্শকদের দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বারবার সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও ভিআইপি-রা কোনো কথা শোনেননি। যার ফলে হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটা সাধারণ দর্শকরা এক ঝলকও মেসিকে দেখতে পাননি। এর পরেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যুবভারতী। ক্ষুব্ধ জনতা স্টেডিয়ামের চেয়ার ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালায়।
"৩৮ দিন জেল খেটেছি, এবার সবকিছুর হিসেব হবে"
সেই ঘটনার রাতেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। দীর্ঘ ৩৮ দিন জেল খাটতে হয়েছিল তাঁকে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার আর চুপ থাকতে রাজি নন শতদ্রু।
দিন কয়েক আগেই ফেসবুকে একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "আমার টিমের কাছে জোর করে অ্যাক্সেস কার্ড চাওয়া হয়েছিল। না দেওয়ায় তাদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়। আপনারা স্রেফ আমার ইভেন্ট নষ্ট করেননি, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। আপনাদের জন্য আমি ৩৮ দিন জেলে ছিলাম। এবার সবকিছুর হিসেব হবে।"
মেসিকাণ্ডের এই আইনি লড়াই টলিউড ও ক্রীড়ামহলকে কতটা নাড়িয়ে দেয়, এখন সেটাই দেখার।
কলকাতার ফুটবল ও বিনোদন জগতের এমন আরও সমস্ত ব্রেকিং নিউজ এবং টাটকা আপডেট পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন StarFlix Bengali News।