কলকাতা: পঞ্চায়েত ভোটের আবহ এবং রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক গতিবিধি খতিয়ে দেখতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার এক হাই-ভোল্টেজ জেলাসফরে বেরোলেন তিনি। সফরসূচির শুরুতেই তিনি পৌঁছান ঐতিহাসিক বেলুড় মঠে, সেখানে দর্শন ও পূজার্চনা সেরে সোজা চলে যান হাওড়ার উদ্দেশ্যে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, হাওড়া জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং থমকে থাকা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর গতি বাড়াতে আজ একটি মেগা প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা স্তরের সমস্ত বড় আধিকারিকদের নিয়ে এই বৈঠকে একাধিক বড়সড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হাওড়ার সার্বিক উন্নয়নের ব্লু-প্রিন্ট: হাওড়া এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নবান্ন সূত্রের খবর, আজকের বৈঠকে জেলার ভৌত পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কড়া বার্তা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন:
"...জনগণের কাজ যেন কোনোভাবে আটকে না থাকে। জেলার প্রতিটি ব্লকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে এবং পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।"
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি, জেলা স্তরের প্রশাসনিক ডেডলক কাটাতে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং কড়া অবস্থান নতুন প্রশাসনের জন্য একটি বড় মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে।
বিগত দিনের খামতি মেটানোই আসল লক্ষ্য: হাওড়া জেলার দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জল ও নতুন কর্মসংস্থানের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে আধিকারিকদের কাছ থেকে সরাসরি রিপোর্ট তলব করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতের নীতিহীনতা ও কাজের খামতিগুলোকে দূর করে দ্রুত নতুন প্রোজেক্ট শেষ করার ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হতে পারে এই বৈঠক থেকে। উন্নয়নের এই নয়া খতিয়ান এবং মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফর রাজ্যের রাজনৈতিক হাওয়াকে কতটা নিজেদের অনুকূলে রাখতে পারে, সেটাই এখন দেখার।