জাতীয় নিরাপত্তায় মেগা পদক্ষেপ নবান্নের! উত্তরবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমি ছাড়ল রাজ্য।

CM Suvendu Adhikari slams Abhishek Banerjee and Jahangir Khan in Falta

 শিলিগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে এসেই জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্তের সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারীর নতুন রাজ্য সরকার। ভারতের সুরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ (Chicken's Neck) এলাকার প্রায় ১২০ একর জমি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রশাসনিক অনুমোদন দিল নবান্ন। এই জমিতে মূলত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ (BSF)।

বছরের পর বছর আটকে থাকা প্রকল্পে গতি

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি করিডোরের এই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি বিগত পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে বছরের পর বছর ধরে ফাইলবন্দি হয়ে আটকে ছিল। যার ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করছিল কেন্দ্র। তবে রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই এই ফাইলটিকে সবুজ সংকেত দিয়ে জমি হস্তান্তরের চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করল শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন।

কেন এই 'চিকেনস নেক' এলাকা ভারতের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ?

ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেক হলো ভারতের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২২ কিলোমিটারের একটি চোকপয়েন্ট (Chokepoint)। এই সরু অংশটিই মূল ভারতের ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোকে (আসাম, সিকিম, ত্রিপুরা ইত্যাদি) যুক্ত করে রেখেছে। এই করিডোরের একপাশে রয়েছে বাংলাদেশ, অন্যপাশে নেপাল ও ভুটান। এছাড়া ওপরের অংশে রয়েছে চীন সীমান্তের চাপ। ফলে এই সংবেদনশীল এলাকার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ভারতীয় সেনার কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। সীমান্ত নিচ্ছিদ্র করতে রাজ্য সরকারের এই দ্রুত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সিকিম সরকারও।

জাতীয় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বড় ছাড়পত্র

সীমান্তের নিরাপত্তার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ভৌত পরিকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। উত্তরবঙ্গের মোট ৭টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক (National Highway) সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সেগুলোকে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) এবং ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL)-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নবান্নের এই জোড়া মাস্টাস্ট্রোকে উত্তরবঙ্গের মানুষ যেমন সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে আশ্বস্ত হবেন, তেমনই পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এই পরিকাঠামো বদল বড় মাইলফলক হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।